আমি বেইমান হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী বলবেন, চার প্রশ্নে তৃণমূল বিধায়কের মহাবিস্ফোরণ!

বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমান’ কটাক্ষের জবাবে এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই কামানের মুখ ঘুরিয়ে দিয়েছেন বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার শাসক দলের বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং অতীত দলবদলের সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল তুলে এক বিস্ফোরক খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের অতীত নিয়ে বিধায়কের খোলা চিঠি
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে রাজনীতি করা এই বিধায়ক ফেসবুকে ট্রোলিংয়ের তীব্র বিরোধিতা করে নিজের রাজনৈতিক সততার খতিয়ান দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের কঠিন সময়ে যখন রাস্তায় লোক পাওয়া যেত না, তখন তিনি প্রথম সারিতে থেকে লড়াই করেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে তিনি নির্দিষ্ট সময়কালের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। প্রথমে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ সালের রাজীব গান্ধী পর্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কংগ্রেস দল তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি দিয়েছিল, ১৯৯৮ সালে সেই দল ভেঙেই তৃণমূল গঠিত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাজপেয়ী জমানায় এনডিএ জোটে সামিল হওয়া, মন্ত্রিত্ব লাভ ও পরবর্তীতে জোট ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে বিধায়ক একে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেন। ২০০৯ সালে সোনিয়া গান্ধীর ইউপিএ জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি একইভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বিধায়কের সাফ প্রশ্ন, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নিলে তা নীতি, আর সাধারণ কর্মীরা প্রশ্ন তুললে কেন তা বেইমানি হবে?
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নজিরবিহীন মহাবিস্ফোরণের মূল কারণ হলো দলের পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের ক্রমাগত হেনস্থা। দীর্ঘদিন দলে থেকেও কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক পদ বা সম্মান না পাওয়ার ক্ষোভ এবং দলের শীর্ষ মহলের দ্বিমুখী নীতি এই বিদ্রোহের আগুনকে উসকে দিয়েছে।
এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। প্রথমত, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ফাটলকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিল। দ্বিতীয়ত, একাধিক সাংসদ ও নেতার বিজেপির দিকে পা বাড়ানোর জল্পনার মাঝেই সুরজিৎ মিত্রের এই খোলা চিঠি দলের অন্দরে চেইন রিঅ্যাকশন বা আরও বড় ভাঙন তৈরি করতে পারে। দলনেত্রীর সততা ও রাজনৈতিক অতীত নিয়ে খোদ দলীয় বিধায়কের এমন প্রশ্ন তোলা আগামী দিনে শাসক দলের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।