ভারতের হাতে ১৯০ পরমাণু অস্ত্র! সিপ্রির রিপোর্ট

স্টোকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রি (SIPRI)-র সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হাতে এখন প্রায় ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এই বৃদ্ধি ভারতের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরমাণু শক্তির নতুন বিন্যাস ও আধুনিকীকরণ
ভারতের এই ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার পেছনে রয়েছে ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা তিনমুখী আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য। স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র—এই তিন মাধ্যম থেকেই পরমাণু হামলা চালানোর সামর্থ্য ভারত সুনিশ্চিত করছে। সিপ্রির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত এখন শান্তি সময়ের মধ্যেও কিছু ওয়ারহেড তাদের লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে চিনের মোকাবিলায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভারতের রণকৌশলে বড় প্রভাব ফেলছে। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহারের এই প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
সাগরপথে ভারতের বাড়ন্ত দাপট
ভারতের সামরিক আধুনিকীকরণে সমুদ্রগর্ভ থেকে আক্রমণের ক্ষমতা বা ‘আন্ডারসি ডিটারেন্স’ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের নতুন সাবমেরিন আইএনএস অরিধমন আগের সাবমেরিনগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। অন্যদিকে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার ১৭০টিতে আপাতত স্থির রয়েছে। যদিও পাকিস্তান আবাবিল ও বাবর-৩ ব্যবস্থার মতো নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিচ্ছে, কিন্তু পরমাণু শক্তির বিচারে ভারতের এই আধুনিক পরিকাঠামো কৌশলগত দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। যদিও দুই দেশই বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়ানোর নীতিতে অটল, তবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উভয় দেশই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়িয়ে চলেছে।