নাইটক্লাব বিতর্কে টালমাটাল ইংল্যান্ড ক্রিকেট, অবসর নিতে পারেন স্টোকস?

লর্ডসে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মাঝেই বড়সড় বিতর্কে জড়াল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। মাঠের সাফল্যের বদলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নাইটক্লাবের একটি অনভিপ্রেত ঘটনা। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কড়া তদন্তের মুখে পড়েছেন খোদ টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। এই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের জেরে শুধু যে তার নেতৃত্ব খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তা নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তার অবসরের গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
লন্ডনের কিংস রোডের রেক্স রুমস নাইটক্লাবে এই বিতর্কের সূত্রপাত। দলের নির্ধারিত মধ্যরাতের কার্ফু অমান্য করে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেন স্টোকস এবং পেসার গাস অ্যাটকিনসন। একই সময়ে সেখানে সারাসেন্স রাগবি ক্লাবের কয়েকজন অ্যাকাডেমি খেলোয়াড় অনুষ্ঠান করছিলেন। এরপরই বচসা বাধে এবং ২১ বছরের রাগবি খেলোয়াড় টোটোয়া আওভা গাস অ্যাটকিনসনকে লক্ষ্য করে ঘুষি ছোঁড়েন। যদিও ঘুষিটি গিয়ে লাগে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের এক নিরাপত্তারক্ষীর মুখে, যার জেরে তাকে সেলাইও নিতে হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, স্টোকস বা অ্যাটকিনসন কেউই এই ঘটনার আগ্রাসী পক্ষে ছিলেন না বা আহত হননি, তবে কার্ফু ভাঙার বিষয়টি তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
শাস্তির মুখে স্টোকস, রয়েছে অবসরের সম্ভাবনাও
গত অ্যাশেজ সফরের পর থেকে দলের ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি এবং মাঠের বাইরের আচরণের বিষয়ে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। এই কঠোর শৃঙ্খলার বার্তা দিতে বোর্ড স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্টের দল ঘোষণাতেও। এই ঘোলাটে পরিস্থিতিতে স্টোকস স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন অথবা তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়েও দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ২০২১ সালের মতো তিনি ফের মানসিক ক্লান্তির কারণে ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, এই বিতর্কের জেরে ১৫ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টেনে স্টোকস পাকাপাকিভাবে অবসরও নিতে পারেন। পুরো বিষয়টি এখন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং শৃঙ্খলার জন্য এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।