স্বয়ং স্ত্রীও উপার্জন করেন ১.৪১ লাখ! তবুও ১.৩৫ লাখ খোরপোশ? এই ডিভোর্স কেস ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া

স্বয়ং স্ত্রীও উপার্জন করেন ১.৪১ লাখ! তবুও ১.৩৫ লাখ খোরপোশ? এই ডিভোর্স কেস ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া

সাধারণত ডিভোর্স কেসে খোরপোশ বা খসড়া দেওয়া হয় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু পুনের একটি ডিভোর্স কেস এখন গোটা দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেখানে কর্মরতা স্ত্রীকে প্রতি মাসে ১.৩৫ লাখ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত!

কী ঘটেছিল এই দম্পতির ক্ষেত্রে?

জানা গেছে, পুনের বাসিন্দা এক দম্পতি বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় মতপার্থক্যের কারণে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আদালতে খোরপোশের মামলা চলাকালীন দুজনের আয়ের খতিয়ান সামনে আসতেই চমকে ওঠেন অনেকেই।

আয়ের খতিয়ান একনজরে:

  • স্বামীর মাসিক আয় (ইন-হ্যান্ড): ২,৭৯,৪৯৯ টাকা
  • স্ত্রীর মাসিক আয় (ইন-হ্যান্ড): ১,৪১,৪৩৬ টাকা

স্ত্রী আদালতে দাবি করেছিলেন যে, বিয়ের পর তিনি যে বিলাস বহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন, তা বজায় রাখার অধিকার তাঁর রয়েছে। সেই যুক্তিতেই আদালত স্বামীকে প্রতি মাসে ১.৩৫ লাখ টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এরপরের অংকটা বড় অদ্ভুত:

এই রায়ের পর দেখা যাচ্ছে—

  • স্ত্রী প্রতি মাসে পাচ্ছেন: তাঁর নিজের বেতন (১.৪১ লাখ) + খোরপোশ (১.৩৫ লাখ) = ২,৭৬,৪৩৬ টাকা।
  • স্বামী পাচ্ছেন: বেতনের বাকি অংশ = ১,৪৪,৪৯৯ টাকা।

অর্থাৎ, ডিভোর্সের পর স্বামী এবং স্ত্রী, দুজনের মাসিক আয়ের পার্থক্য মাত্র কয়েক হাজার টাকায় এসে ঠেকেছে!

ট্যাক্সের জালে স্বামী:

সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো আয়কর নীতি। খোরপোশ প্রদানকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ‘ব্যক্তিগত খরচ’ হিসেবে গণ্য হয়, তাই এর ওপর কোনো ট্যাক্স ছাড় পাওয়া যায় না। এর মানে হলো, স্বামী তাঁর পুরো বেতনের (২.৭৯ লাখ) ওপর ট্যাক্স দেবেন, অথচ হাতে থাকবে মাত্র ১.৪৪ লাখ টাকা! নেটিজেনরা একে কটাক্ষ করে বলছেন, “এই রায়ে সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে আয়কর দফতর!”

সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়:

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রায়ের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

  • “মাত্র ৬ মাসের বিয়ের সম্পর্কে এত বড় খোরপোশ কেন?”
  • “স্ত্রী যখন নিজে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন, তখন খোরপোশ দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?”
  • “আইন কি তবে লিঙ্গভেদে পক্ষপাতদুষ্ট?”—এমনই নানা প্রশ্নে সরব নেটনাগরিকরা।

বহু মানুষ মনে করছেন, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নারীদের ক্ষেত্রে খোরপোশের আইনটি পুনরায় ভাবার সময় এসেছে। অন্যথায়, এই আইন অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আপাতত ‘গ্রেপভাইন’ (Grapevine) অ্যাপ থেকে ভাইরাল হওয়া এই খবর নিয়ে আইনি মহলেও চলছে বিস্তর চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *