মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা! নতুন করে সম্মুখ সমরে আমেরিকা ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা! নতুন করে সম্মুখ সমরে আমেরিকা ও ইরান

শান্তি আলোচনার যাবতীয় সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। সোমবার মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ভূপাতিত হলো আমেরিকার অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন। একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত।

পালটা হামলায় উত্তাল তেহরান ও মার্কিন নৌবহর

সোমবার অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংসের ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় আমেরিকা। কোহেস্তাক, সিরিক, মিনাব এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই হামলায় ইরানের কৌশলগত পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকার এই আগ্রাসনের মোকাবিলায় ইরানও বসে থাকেনি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের আইআরজিসি বাহরিনে মোতায়েন মার্কিন নৌবহর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে সংগঠিত এই হামলায় হরমুজ প্রণালীর কাছে মাঝ আকাশেই আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করে তেহরান। পাশাপাশি জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার আল আজরাক বিমানঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মজুত রয়েছে।

যুদ্ধের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সংঘাতের সূত্রপাত। মার্কিন হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংসকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইরানকে ‘অযৌক্তিক আগ্রাসী’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রশাসন সামরিক শক্তির প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এই ধারাবাহিক সামরিক উত্তজনা কেবল দুই দেশের সীমান্তকেই অশান্ত করছে না, বরং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। উভয় দেশের কঠোর অবস্থানে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আপাতত সুদূরপরাহত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *