পাহাড়ের ১৬ জনজাতি বোর্ডের দুর্নীতির তদন্তে কঠোর হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

পাহাড়ের ১৬ জনজাতি বোর্ডের দুর্নীতির তদন্তে কঠোর হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

পাহাড়ের উন্নয়নের নামে বিগত রাজ্য সরকারের আমলে গঠিত ১৬টি জনজাতি উন্নয়ন বোর্ডে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠল। সোমবার দার্জিলিং সফরে গিয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাহাড়ের উন্নয়ন তহবিলের তছরুপের অভিযোগে শুধু ১৬টি বোর্ড নয়, বরং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-কেও (GTA) তদন্তের আওতায় আনা হবে। আগের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী দাবি করেন, উন্নয়নের নামে পাহাড়ের মানুষকে কেবল ধোঁকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি পয়সার হিসাব নেওয়া হবে।

পাহাড়ের সংকট ও উন্নয়নের রূপরেখা

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত পানীয় জলের সংকট দূর করতে ‘আম্রুত’ (AMRUT) প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। সোমবার তিনি সিনচেল এলাকায় চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি, পর্যটন কেন্দ্র মিরিক লেকের সৌন্দর্য বর্ধন ও পুরো এলাকাকে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, গত বছরের বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের মধ্যে তা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। সেইসঙ্গে, ঘরহারা উপভোক্তাদের পাওনা বাকি ৬০ হাজার টাকা দ্রুত প্রদানের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এই তদন্তের ফলে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অস্পষ্টতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উন্নয়নের এই প্রতিশ্রুতি ও তদন্তের প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর পাহাড়বাসীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *