মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত দপ্তর বণ্টন, কোন কোন হেভিওয়েট মন্ত্রক নিজের মুঠোয় রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হলো নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন। গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল ছিল শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে কোন কোন মন্ত্রক রাখবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ রাজ্যের সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রত্যাশামতোই প্রশাসনের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ ও গুরুত্বপূর্ণ একাধিক হেভিওয়েট দপ্তর নিজের হাতেই রেখেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর হাতে স্বরাষ্ট্র ও ভূমি সংস্কার
প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এবং রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক নিজের অধীনে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়াও ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের দায়িত্বও থাকবে তাঁর কাঁধেই। যে সমস্ত দপ্তর অন্য কোনো মন্ত্রীকে বণ্টন করা হয়নি, সেগুলিও নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। গত মে মাসে প্রথম দফায় এবং ১ জুন দ্বিতীয় দফায় বাকি মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর আজ চূড়ান্তভাবে এই দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
হেভিওয়েটদের দপ্তর বদল ও নতুন দায়িত্ব
ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনে বেশ কিছু চমকপ্রদ রদবদল দেখা গেছে। প্রথমে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেলেও, নতুন তালিকায় নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের গুরুভার দেওয়া হয়েছে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। অন্যদিকে, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের দায়িত্ব কিছুটা পুনর্বিন্যাস করে তাঁকে শুধু পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কাছে থাকা নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরটি হস্তান্তর করা হয়েছে মালতী রাভা রায়ের কাছে। এ ছাড়াও রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত, স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বাণিজ্য দপ্তরে এসেছেন তাপস রায় এবং অর্জুন সিংকে দেওয়া হয়েছে শ্রম ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ দায়িত্ব।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও বিদ্যুতের মতো নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি নিজের হাতে রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খল ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মূল রাশ তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চান। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বা নারী কল্যাণের মতো ক্ষেত্রগুলিতে দায়িত্ব রদবদল করে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নতুন মেয়াদে প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই নতুন দপ্তর বণ্টনের মূল লক্ষ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব।