পাঁচ বছরে সম্পত্তি বাড়ল ৫৮ শতাংশ, দেশের ধনীতম মুখ্যমন্ত্রীর আসনে ডি শিবকুমার!

দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ডি শিবকুমার। ৩ জুন তাঁর এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজ্য প্রশাসকদের মধ্যে শীর্ষ বিত্তশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় এক বড় রদবদল ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ বছরে বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি।
পাঁচ বছরে লাফিয়ে বাড়ল সম্পদ
২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, শিবকুমার ও তাঁর পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮৪০.০৮ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় দেখা যায়, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সেই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১,৪১৩.৭৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ১,১৪০.৩৬ কোটি টাকার স্থাবর এবং ২৭৩.৪২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। শুধু তাঁর নিজের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে ৯৭২.৬৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি।
সম্পত্তি বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে বেঙ্গালুরুর দ্রুত নগরায়ন এবং নতুন সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। বেঙ্গালুরুর দক্ষিণ ও কনকপুরা অঞ্চলে শিবকুমারের ৭১ একরের বেশি কৃষিজমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য সাম্প্রতিক সময়ে চড়চড় করে বেড়েছে। জমি-বাড়ি ছাড়াও তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বিলাসবহুল রোলেক্স ও হাবলো ঘড়ি, ২ কেজি ১৮৪ গ্রাম সোনা, সাড়ে ১২ কেজি রুপো এবং ৩২৪ গ্রাম হিরে। তবে বিশাল এই সম্পদের পাশাপাশি কর্নাটকের এই মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়ে প্রায় ২৬৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝাও রয়েছে।
শীর্ষ তিনের অন্য দুই মুখ
শিবকুমার শীর্ষস্থান দখল করার আগে পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের এন চন্দ্রবাবু নাইডু। বর্তমানে ৯৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তাঁর এই বিত্তের বড় অংশ পারিবারিক ব্যবসা ‘হেরিটেজ ফুডস লিমিটেড’-এর শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তামিলনাড়ুর সদ্যবিজেতা মুখ্যমন্ত্রী তথা দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা থলপতি বিজয়। ‘তমিজহাগা ভেত্রি কাজগাম’ (টিভিকে) দলের এই প্রতিষ্ঠাতার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে বড় অংশ রয়েছে ব্যাংক আমানত ও শেয়ার বাজারে।
১৯৮৯ সাল থেকে টানা বিধায়ক হিসেবে জয়ী হওয়া ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা ডি শিবকুমারের এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্থান দক্ষিণের রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যকে আরও সুদৃঢ় করল। অন্যদিকে, শীর্ষ তিন ধনীতম মুখ্যমন্ত্রীর সকলেই দক্ষিণ ভারতের হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের এক ভিন্ন চিত্রই ফুটে উঠছে।