বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝেই বড় স্বস্তি! ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে শুল্ক ছাড় কেন্দ্রের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যার জেরে ক্রমাগত বাড়ছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। ভারতের মতো দেশ, যা তার তেল চাহিদার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে, সেখানে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই আন্তর্জাতিক সংকটের মোকাবিলায় এবং দেশের বাজারে বড় স্বস্তি দিতে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। উচ্চ মাত্রায় ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে সম্পূর্ণ আবগারি শুল্ক ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
অর্থমন্ত্রকের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উচ্চ মাত্রার চার ধরনের ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের ওপর থেকে সব ধরনের আবগারি শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে ই২২ (২২ শতাংশ ইথানল, ৭৮ শতাংশ পেট্রল), ই২৫ (২৫ শতাংশ ইথানল, ৭৫ শতাংশ পেট্রল), ই২৭ (২৭ শতাংশ ইথানল, ৭৩ শতাংশ পেট্রল) এবং ই৩০ (৩০ শতাংশ ইথানল, ৭০ শতাংশ পেট্রল)। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে এই নির্দিষ্ট চার ধরনের মিশ্রিত জ্বালানির দাম এবার কমতে চলেছে। তবে সাধারণ বা প্রচলিত পেট্রলের ক্ষেত্রে কোনও কর ছাড় দেওয়া হয়নি।
বিকল্প জ্বালানিতে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য
ইথানল মূলত আখ এবং ভুট্টার মতো বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি এক ধরনের জৈব জ্বালানি, যা পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। দেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে দীর্ঘদিন ধরেই ইথানলের ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। আগামী দিনে সম্পূর্ণ ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের। মূলত ভিনদেশ থেকে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই জৈব জ্বালানি তৈরি করতে মরিয়া সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা ভারতকে নতুন করে বিকল্প জ্বালানির গুরুত্ব অনুধাবন করিয়েছে। এই কর ছাড়ের ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকেরা কম দামে জ্বালানি পাবেন, অন্যদিকে তেমনই বিদেশি তেলের ওপর ভারতের আমদানির চাপ ও বিপুল ব্যয় অনেকটাই কমবে। বিশ্ববাজারের এই চরম সংকটের সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বাড়াতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর প্রভাব ফেলবে।