দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে এবার উদ্ধব শিবিরে ভাঙন?

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মরিয়া চেষ্টা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর ভাঙার খবরের রেশ কাটতে না কাটতে এবার মহারাষ্ট্রের প্রধান বিরোধী দল শিবসেনার (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) ওপর বড়সড় থাবা বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
উদ্ধব শিবিরে এনডিএ-র নজর
লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের দলত্যাগের জল্পনার মাঝেই এবার উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ইউবিটি-তে ফাটল ধরার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, উদ্ধব শিবিরের সাতজন লোকসভা সাংসদ খুব শীঘ্রই দলত্যাগ করে একনাথ শিন্ডে শিবিরে শামিল হতে পারেন। দিল্লির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডের সঙ্গে ওই সাংসদদের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী, একসঙ্গে সাতজন সাংসদ দলবদল করলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের গেরোতেও পড়তে হবে না তাদের। ফলে তৃণমূলের ক্ষেত্রে যে কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, ঠিক একই ফর্মুলা উদ্ধব সেনার ক্ষেত্রেও খাটাতে চাইছে শাসক শিবির।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি এবং ঐতিহ্যবাহী বৃহন্মুম্বই পৌরসভা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। এমতাবস্থায় তাঁর দলটিকে বিরোধী শিবিরের ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মোদি ও অমিত শাহর নেতৃত্বাধীন বিজেপি লোকসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করতে মরিয়া।
যদিও উদ্ধব শিবিরের শীর্ষ নেতা সঞ্জয় রাউত এই সমস্ত জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে, এই দাবি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এই ভাঙন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন এনডিএ-র শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যা জাতীয় রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।