মমতার সঙ্গ ছাড়লেও আক্ষেপ যাচ্ছে না শতাব্দীর! দিদিকে বললেন ‘মিস ইউ দিদি’

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বীরভূমের দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সম্প্রতি দিল্লিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে এনডিএ শিবিরকে সমর্থনের কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আবেগ এখনও অটুট। এক সাক্ষাৎকারে দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেও প্রাক্তন দলনেত্রীর উদ্দেশে শতাব্দীর আবেগঘন বার্তা, ‘মিস ইউ দিদি’।
ক্ষোভের কারণ ও দলত্যাগের নেপথ্য কাহিনি
শতাব্দী রায়ের দলত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী দলীয় নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূলের বিপুল ব্যবধানে পরাজয়ের পর কালীঘাটে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শতাব্দীর অভিযোগ, দলের এই ভরাডুবির কারণ হিসেবে দুর্নীতি, আইপ্যাক বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে কোনো আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি। উলটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারের দায় স্বীকার না করে দাবি করেন তাঁকে হারানো হয়েছে। এমনকি দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে বলা হয়। দলে কোনো পরিবর্তন বা রদবদলের সদিচ্ছা না দেখেই শতাব্দী রায় তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
আবেগ ও বঙ্গ রাজনীতির সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক দিক থেকে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিলেও আবেগগতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে আসা শতাব্দীর পক্ষে সহজ ছিল না। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, দিদির সঙ্গে না থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়া তাঁর জন্য বেশ কষ্টকর। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শতাব্দীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করা ছাড়া তৃণমূলের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই জোটে নিজেকে দ্বিতীয় স্থানে রাখতে রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে প্রবল সংশয় রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের এই ধারাবাহিক দলত্যাগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।