যাদবপুরে হকার উচ্ছেদে বড় স্বস্তি, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ কলকাতা হাই কোর্টের!

রেলের জমিতে বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজ্যজুড়ে চলা উত্তেজনার মাঝে হকারদের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর দিল কলকাতা হাই কোর্ট। যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত হকার উচ্ছেদের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। এর পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেলের হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত পুরোনো ও নতুন সমস্ত মামলা একসঙ্গে শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ আদালত।
উচ্ছেদ অভিযান ও যাদবপুরের ঘটনা
গত কয়েকদিন ধরেই শিয়ালদহ, হাওড়া ও দমদমসহ রাজ্যের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আরপিএফ এবং রেল পুলিশের তরফে বেআইনি দখলদার ও হকার উচ্ছেদের বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছিল। রেলওয়ের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও গত রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশনের ধারে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উচ্ছেদের প্রতিবাদে হকারদের পাশাপাশি সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। যার জেরে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের নির্দেশ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
বুধবার হকারদের তরফে আইনজীবী শামিম আহমেদ বিষয়টি বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আপাতত ১৭ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয়। একইসঙ্গে হাওড়া, কোন্নগর ও ডানকুনিসহ রাজ্যের অন্যান্য এলাকার উচ্ছেদের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে একই দিনে শুনানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মূলত রেলের নিরাপত্তা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বহু হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির উপর। তবে আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে কর্মসংস্থান হারানো মানুষগুলো সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও, আগামী ১৭ জুনের শুনানিতে এই জটিল সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।