তৃণমূলে ফের বড় ভাঙন, শুভেন্দুর উপস্থিতিতে বিজেপির দরবারে সায়নী ও মালা!

তৃণমূলে ফের বড় ভাঙন, শুভেন্দুর উপস্থিতিতে বিজেপির দরবারে সায়নী ও মালা!

রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন অব্যাহত। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বৈঠক করলেন তৃণমূলের আরও চার সাংসদ। এই বৈঠকে সায়নী ঘোষ এবং মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট নেত্রীদের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্রমশ নিজেদের দলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।

বিদ্রোহী শিবিরে হেভিওয়েটদের যোগদান

গত সোমবার শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদদের একটি বড় অংশ দিল্লিতে গিয়ে প্রথম ‘বিদ্রোহী’ ব্লক গঠন করেছিলেন। সেই ধারায় এবার যুক্ত হলেন দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় এবং যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের খাসতালুক বলে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতা থেকে খোদ নবনিযুক্ত মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী মালা রায়ের এই পদক্ষেপ শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে একটি বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত সায়নী ঘোষেরও একই পথে হাঁটার সম্ভাবনা দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও প্রকট করেছে।

ভাঙনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জল্পনা ঘিরে দলের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা ও মতানৈক্য তৈরি হয়েছে, মূলত তার জেরেই এই ধারাবাহিক বিদ্রোহ। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ইতিমধ্যেই ১৯ জন সাংসদ সরকারিভাবে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা-সহ এই সংখ্যা খুব দ্রুত ২২ থেকে ২৩-এ পৌঁছতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক সাংসদের দলত্যাগ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও সাংগঠনিক ভিত্তিকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *