শিবির বদলের জল্পনায় মুখে কুলুপ ফিরহাদ হাকিমের

রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতার নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে ফিরহাদের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আজ বিধানসভা অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে, যেখানে ফিরহাদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
মৌনতাই কি নতুন বার্তার ইঙ্গিত
সাংবাদিকরা সরাসরি শিবির বদল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির কারণ জানতে চাইলে ফিরহাদ হাকিম কোনো সদুত্তর দেননি। বারবার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও তিনি মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে নোটিস প্রেরণ ও পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, প্রাক্তন মেয়র হিসেবে নিজের বর্তমান দায়বদ্ধতা নেই বলেই দায় এড়িয়েছেন তিনি। কোনো স্পষ্ট অস্বীকৃতি না জানিয়ে তার এই নীরবতা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
বিধানসভার অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি
তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা ৬৫-এর কোঠায় পৌঁছাতে চলেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ফিরহাদ হাকিমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে বলে দলের একটি অংশ দাবি করছে। আজ দুপুরে বিধানসভায় যাওয়ার কথা রয়েছে তার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বিধানসভার ঘটনাক্রমই নির্ধারণ করবে রাজ্যের এই প্রভাবশালী নেতার পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হতে চলেছে। তার এই অবস্থান পরিবর্তন বাংলার ক্ষমতার সমীকরণে বড় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।