কুসংস্কারের নামে চরম বর্বরতা! শ্যালকের বিয়ের জন্য স্ত্রী ও শাশুড়িকে বিবস্ত্র করে ‘নগ্ন পুজো’ উন্মাদের

নভি মুম্বই: কুসংস্কারের বশে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, তার এক হাড়হিম করা ও লজ্জাজনক নিদর্শন সামনে এল মহারাষ্ট্রে। শ্যালকের বিয়ের বাধা কাটানোর দোহাই দিয়ে নিজের স্ত্রী ও শাশুড়িকে ঘরের ভেতর বিবস্ত্র করে ‘তান্ত্রিক পুজো’ করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁদের নগ্ন ছবি তুলে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার মতো চরম অপরাধও ঘটিয়েছে সে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নভি মুম্বইয়ের ওয়াশি এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত রমেশের আসল বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায়। সে তার স্ত্রী রাধা ও শাশুড়ি সরিতার সাথে নভি মুম্বইয়ের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। অভিযোগ, গত এপ্রিল মাসে রমেশ তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে বিশ্বাস করায় যে, রাধার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে বড় কোনো বাধা বা দোষ রয়েছে। সেই দোষ কাটাতে ঘরেই একটি বিশেষ ‘তান্ত্রিক পুজো’ করতে হবে। আর এই পুজোর নিয়ম মেনেই স্ত্রী ও শাশুড়িকে জামাকাপড় খোলার জন্য চাপ দিতে শুরু করে সে।
পরিবারের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে চরম অনিচ্ছা ও লোকলজ্জার ভয় সত্ত্বেও রমেশের ফাঁদে পা দেন ওই দুই মহিলা। কিন্তু পুজো তো দূরস্ত, ওই দুই প্রৌঢ়া ও যুবতী বিবস্ত্র হতেই নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে নেয় রমেশ। এর পর থেকেই শুরু হয় আসল অত্যাচার।
উন্মাদ স্বামী সেই নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ত্রী রাধাকে লাগাতার ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এরপর রাধাকে আজমিরে ডেকে পাঠায় সে। রাধা সেখানে পৌঁছালে রমেশ চরম নোংরামি করে বসে। সে ওই নগ্ন ছবিগুলো সরাসরি রাধার বাবা এবং ভাইয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়।
নিজের নিজের মা ও বোনের এই ছবি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে সমস্ত ভয় কাটিয়ে ওয়াশি থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা গৃহবধূ। পুলিশের কাছে স্বামীর সমস্ত কুকীর্তির কথা খোলসা করেন তিনি।
অভিযোগ পেয়েই নভি মুম্বই পুলিশ অভিযুক্ত রমেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা, তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act) এবং মহারাষ্ট্রের কালাজাদু ও কুসংস্কার বিরোধী আইন-২০১৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত রমেশ। তার খোঁজে সব রকমভাবে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।