২০০ কোটির জালিয়াতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ জ্যাকলিন!

দুশো কোটি টাকার হাইপ্রোফাইল আর্থিক তছরুপ মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। কুখ্যাত ঠগ সুকেশ চন্দ্রশেখরের এই জালিয়াতি মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই সরগরম বলিপাড়া। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ইতিপূর্বে দাবি করেছিল, সুকেশের সমস্ত কুকীর্তি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও জেনে-বুঝে সেই কালো টাকা ভোগ করেছেন এই শ্রীলঙ্কান অভিনেত্রী। যদিও জ্যাকলিনের পালটা দাবি, সুকেশ তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসিয়েছেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছেন তিনি।
আইনি লড়াইয়ে জ্যাকলিনের নতুন কৌশল
গত মাসে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ ও সুকেশ চন্দ্রশেখর-সহ মোট ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় চার্জশিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। মামলার নথি ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, অভিযুক্তরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন অভিনেত্রী। এর আগে গত এপ্রিল মাসে এই মামলা থেকে রেহাই পেতে সরকারি সাক্ষী হওয়ার জন্য দিল্লির আদালতে আবেদনও জানিয়েছিলেন জ্যাকলিন। সে সময় তিনি সাফ জানান যে, তদন্তকারী সংস্থাকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।
জালিয়াতির নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লির তিহার জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় এক অভিনব জালিয়াতির ছক কষেছিল সুকেশ চন্দ্রশেখর। সে নিজেকে একজন বড় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো এই বিপুল কালো টাকার একটি বড় অংশ বিলাসবহুল ও দুর্মূল্য উপহার হিসেবে চলে গিয়েছিল সুকেশের ‘প্রেমিক’ জ্যাকলিনের কাছে। শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে এলেও, এই গুরুতর আইনি জট অভিনেত্রীর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চূড়ান্ত চেষ্টা হিসেবেই তিনি এখন আইনি লড়াইয়ের সর্বোচ্চ পথ বেছে নিয়েছেন।