এভারেস্টে ভয়াবহ ভিড় আর বরফ গলে জলের স্রোত! বাড়ছে পরিবেশগত সংকট

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্বতারোহীর ভিড় তৈরি হয়েছে। নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ‘প্রি-মনসুন’ মরশুমে ১ হাজার ৮ থেকে ১ হাজার ১০ জন পর্বতারোহী সফলভাবে এভারেস্ট জয় করেছেন, যা এক সর্বকালীন রেকর্ড। তবে এই বিপুল সাফল্য ছাপিয়ে এবার উঠে এসেছে ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে ২০ মে একদিনেই ২৭০ জন পর্বতারোহী শীর্ষে পৌঁছানোয় তৈরি হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর ‘ট্রাফিক জ্যাম’। ‘হিলারি স্টেপ’-এর মতো দুর্গম জায়গায় নিজেদের পালা আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অভিযাত্রীদের। এই অতিরিক্ত ভিড় এবং ক্লান্তি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
পরিবেশের পরিবর্তন ও শেরপাদের উদ্বেগ
পর্বতারোহণের বাণিজ্যিক সাফল্য বাড়লেও হিমালয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন অভিজ্ঞ শেরপারা। আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে হিমবাহের যে ভঙ্গুর দশা তৈরি হয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। সাত হাজার মিটার উচ্চতায় থাকা প্রবল ঠাণ্ডাতেও এবার বরফ গলে জলের স্রোত বয়ে যেতে দেখা গেছে, যা পর্বতের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এছাড়া ক্যাম্প এলাকাগুলোতে বর্জ্যের স্তূপ, দূষণ এবং অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই মরশুমে সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায় ছিল হিলারি দাওয়া নামক এক শেরপাকে ‘ডেথ জোন’-এ মৃত ভেবে ফেলে রেখে আসার ঘটনা। সাত দিন পর ভাগ্যক্রমে তিনি নিজে হাতে টেনে নিজেকে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। বাণিজ্যিক অভিযানের এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড় ও অমানবিক ঘটনাগুলো হিমালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। শেরপারা এখন এভারেস্টকে নিরাপদ ও দূষণমুক্ত রাখতে কঠোর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ চালুর জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।