কাগজ কলমের দিন শেষ, বাংলায় পেপারলেস বিধানসভা গড়ার ঐতিহাসিক উদ্যোগ!

রাজ্যে প্রথমবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিধানালয়ের কার্যপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটল বিজেপি সরকার। সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং কাজের গতি বাড়াতে এবার বিধানসভাকে সম্পূর্ণ পেপারলেস বা ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন বিধায়কদের সংসদীয় কার্যকলাপে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড়সড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
নতুন বিধায়কদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ
স্পিকার রথীন্দ্র বোস জানিয়েছেন, অষ্টাদশ বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে অন্তত ২০০ জনই নতুন। সংসদীয় নিয়মকানুন, বিতর্কের মান এবং বিধানসভার রীতিনীতি সম্পর্কে তাদের ওয়াকিবহাল করতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী বাজেট অধিবেশনের পরপরই এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ দিতে লোকসভার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান বিধানসভার অভিজ্ঞ স্পিকারদের রাজ্যে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল করতেই এই প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও সরাসরি সম্প্রচারের বার্তা
কাগজবিহীন বা ই-বিধানসভা চালুর পাশাপাশি বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৫ মে স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, অধিবেশন লাইভ সম্প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পারফরম্যান্স, সরকারের কাজের পদ্ধতি এবং বিরোধীদের আচরণ সরাসরি দেখতে পাবেন। এর ফলে জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনই অতীতের তিক্ততা ভুলে বিরোধীদের সুস্থ অংশগ্রহণে বিধানসভার কাজ আরও সমৃদ্ধ হবে।
মূলত বিপুল সংখ্যক নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং কার্যপদ্ধতিতে আধুনিকীকরণের তাগিদ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা পেপারলেস হলে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরাসরি সম্প্রচার ও প্রশিক্ষণের যুগলবন্দি রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।