ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের! এবার গৃহবধূদের ‘মাসিক বেতন’ ৩০ হাজার টাকা, ভাঙল পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের! এবার গৃহবধূদের ‘মাসিক বেতন’ ৩০ হাজার টাকা, ভাঙল পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা

নয়া দিল্লি: ‘বিয়ে করা মানেই ঘরে একজন পরিচারিকা নিয়োগ করা নয়’— সমাজ ও পরিবারে মহিলাদের অবদান নিয়ে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। যুগ যুগ ধরে ঘরের চার দেয়ালে নারীদের যে হাড়ভাঙা খাটুনিকে ‘অদৃশ্য’ ও ‘মূল্যহীন’ করে রাখা হয়েছিল, তাকেই এবার আইনি স্বীকৃতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁরা ঘর সামলান, তাঁরা শুধু ‘হোমমেকার’ নন, তাঁরা আসলে ‘নেশন বিল্ডার’ বা দেশ গড়ার কারিগর।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক গৃহবধূর পরিবারের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ করেন। আদালত স্পষ্ট করে, পথ দুর্ঘটনায় কোনো গৃহবধূর মৃত্যু বা আঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পুরোনো নিয়ম এবার বদলে যাবে।

এতদিন এই ধরনের মামলায় গৃহবধূদের কাল্পনিক আয় একজন অদক্ষ শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি (মাসে মাত্র ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা) অনুযায়ী হিসেব করা হতো। সুপ্রিম কোর্ট এই পদ্ধতিকে খারিজ করে জানিয়েছে, কোনো গৃহবধূর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন অদক্ষ শ্রমিক চলে যাওয়া নয়, এটা একটা সংসারের অভিভাবককে হারানোর সমান ক্ষতি (Loss of domestic care)। তাই মোটর ভেহিকল অ্যাক্টের আওতায় পথ দুর্ঘটনায় কোনো গৃহবধূর মৃত্যু হলে তার ক্ষতিপূরণের হিসেব করতে গৃহবধূদের মাসিক ন্যূনতম ‘কাল্পনিক বেতন’ ৩০,০০০ টাকা ধার্য করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

পাশাপাশি, বৈবাহিক জীবন ও সংসার নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় শক্ত ধাক্কা দিয়ে আদালত জানিয়েছে, বিয়ের পর ঘরের সমস্ত কাজ একা স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না, ঘরকন্নার কাজ দম্পতির যৌথ দায়িত্ব। কোনো মহিলা যদি সংসারের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার বা পেশাগত স্বপ্ন পূরণ করতে চান, তবে তাকে কোনোভাবেই স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির প্রতি ‘নিষ্ঠুরতা’ বলা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়কে দেশের কোটি কোটি নারীর অদৃশ্য শ্রমের প্রতি এক বিরাট সম্মান ও ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন আইন ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *