স্কুলের ‘সিক রুমে’ এসি-বিছানা-লাক্সারি বাথরুম! রাতভর তল্লাশিতে মিলল দেড় কোটি নগদ
কাঁচরাপাড়া: নামেই স্কুলের ‘সিক রুম’ বা অসুস্থ পড়ুয়াদের বিশ্রাম নেওয়ার ঘর। কিন্তু ভেতরে ঢুকলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য! এলাহী সাজানো বিছানা, এসি, আলমারি থেকে শুরু করে আধুনিক অ্যাটাচড বাথরুম— কী নেই সেখানে! উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে (হার্নেট স্কুল) হানা দিয়ে এমনই এক রহস্যময় বিলাসবহুল ঘরের হদিস পেল পুলিশ। আর সেই ঘরের তালা খুলতেই চোখ চড়কগাছ তদন্তকারীদের। রাতভর ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়ে ওই ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা!
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এবার কাঁচরাপাড়ার এই নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজের ভেতরে এমন প্রমোদকক্ষের মতো ঘর কী উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল, তা ভেবেই কূল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্কুলের হিসাবরক্ষক অভীক নাগকে আটক করেছে পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার উৎস কী, তা জানতে তাঁকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মোট চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর ভাই কমল অধিকারী। এছাড়াও নাম রয়েছে গৌতম ঘোষদস্তিদার, অভীক কুমার নাগ এবং সায়ন নাগের। নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং কম্পিউটারও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
এদিকে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীজপুরের বর্তমান বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি বলেন, “এই স্কুলের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। একটা এত পুরনো স্কুল, যার সাথে আমাদের আবেগ জড়িয়ে, তার এই অবস্থা করেছে! সিক রুমে বিছানা, এসি, অ্যাটাচ বাথরুম রাখা হয়েছে। আমি বিধায়ক হিসেবে একজন গেজেটেড অফিসারকে দিয়ে এলাকার সব স্কুলের ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করাচ্ছিলাম, তাতেই এই নোংরা কীর্তি সামনে এল। ভাবছি, এখানকার পড়ুয়াদের মনে এ সবের কী প্রভাব পড়ছে!”
অন্যদিকে, এত টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পালের দাবি, এই বিপুল টাকা নাকি স্কুলে ভর্তি এবং বই বিক্রির। যদিও অ্যাকাউন্টস সেকশনের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি পাশ কাটিয়েছেন। তবে টাকা যদি ভর্তিরই হয়, তাহলে তা ব্যাঙ্কে না রেখে ‘সিক রুমে’ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কেন, আর স্কুলের ভেতরে এমন প্রমোদকক্ষই বা কেন তৈরি হলো— তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রিন্সিপাল। ঘটনার পেছনে বড় কোনো শিক্ষা দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।