বেশি বয়সে বাবা হওয়ার ঝুঁকি! জেনে নিন আদর্শ বয়স কোনটা

সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের বয়স কোনো বাধা নয়, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মা হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ বাবার বয়সও। নারীদের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলেও, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শুক্রাণু উৎপাদনের হার এবং এর গুণগত মান কমতে থাকে।
বাবা হওয়ার আদর্শ বয়স ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি
ফর্টিস হাসপাতালের চিকিৎসক ড. সুমিতা সাহার মতে, পুরুষদের বাবা হওয়ার আদর্শ সময় হলো ২৫ থেকে ৪০ বছর। কোনো পুরুষ তুলনামূলক বেশি বয়সে, বিশেষ করে ৪০ থেকে ৪৫ বছরের পর বাবা হলে স্বতঃস্ফূর্ত জেনেটিক পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে সদ্যোজাতদের মধ্যে নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বয়সে বাবা হওয়ার কারণে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক বিকাশজনিত জটিলতার মতো নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
উর্বরতা হ্রাসে জীবনযাত্রার প্রভাব
বয়স বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান দ্রুতগতির জীবনযাত্রাও পুরুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস, ধূমপান এবং মদ্যপান বর্তমানে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ, স্থূলতা এবং বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
যদিও ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সেও পুরুষদের সন্তান জন্ম দেওয়ার নজির রয়েছে, তবে তা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সিংহভাগ পুরুষই বেশি বয়সে সন্তান গ্রহণে গিয়ে নানামুখী জটিলতার সম্মুখীন হন। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্মের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।