ববিও কি এবার মমতার পাশ ছাড়ছেন? ‘নতুন দলে’ যোগ দেওয়া নিয়ে ফিরহাদের রহস্যময় জবাবে তোলপাড়
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, দল কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিনিয়ত দল ছাড়ছেন বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতা-নেত্রীরা। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে নেতাদের বেরিয়ে যাওয়ার এই আবহে এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে কলকাতার সদ্য পদত্যাগী মেয়র তথা হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমকে (ববি) নিয়ে।
তিনি কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতির তকমা ঝেড়ে ফেলে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে পা বাড়াচ্ছেন? অবশেষে এই হাইভোল্টেজ ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফিরহাদ।
ঋতব্রতের ‘নতুন তৃণমূলে’ ফিরহাদ হাকিম? তুঙ্গে জল্পনা
বিগত কয়েক দিন ধরেই বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করেছে, তাতে নাকি যোগ দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে তাঁর সদ্য ইস্তফা দেওয়ার পর এই জল্পনার পারদ আরও কয়েক গুণ চড়ে যায়।
এদিন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সরাসরি তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, “আপনি কি সত্যিই নতুন তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন?” এই প্রশ্নের উত্তরে ববি হাকিম যে অবস্থান নিয়েছেন, তা বেশ রহস্যজনক এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তিনি জল্পনা সরাসরি উড়িয়ে না দিয়ে অত্যন্ত কৌশলী ভঙ্গিতে বলেন, “এ ব্যাপারে আমি এখন কিছুই জানাব না। এই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতেও চাই না।” ফিরহাদের এই রহস্যময় নীরবতা তাঁর দলবদল বা মান-অভিমানের জল্পনাকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ! কী বললেন সদ্যপ্রাক্তন মেয়র?
তৃণমূলের অন্দরের ডামাডোলের মাঝেই আরেকটি ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে কোনো উত্তর বা প্রতিক্রিয়া আসেনি।
স্বভাবতই, সদ্য পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জানতে চাওয়া হয়, কলকাতার মেয়র হিসেবে তিনি এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? জবাবে কিছুটা উদাসীন এবং ক্ষুব্ধ সুরে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমি এখন আর কলকাতা পুরসভার মেয়র নই। আমি পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দিয়েছি। তাই পুরসভার কোনো নোটিশ বা সেই সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না এবং দিতেও চাই না।”
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিমের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং পুরসভার মেয়রের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেওয়া, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও সমন্বয়হীনতাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। একদিকে যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ যাচ্ছে, অন্যদিকে তখন দলেরই পুরানো ও বিশ্বস্ত সৈনিকেরা দূরত্ব বজায় রাখছেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ যদি সত্যিই ফিরহাদ হাকিমের মতো বড় মাপের নেতাকে নিজেদের শিবিরে টানতে পারে, তবে তা মূল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এখন দেখার, জল্পনা এড়িয়ে যাওয়া ফিরহাদ হাকিম আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেন।