টাকা আর লোগো আসলে কার? লোকসভায় আলাদা লবি তৈরি করে এবার বড় ধাক্কা দিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ!

টাকা আর লোগো আসলে কার? লোকসভায় আলাদা লবি তৈরি করে এবার বড় ধাক্কা দিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ!

লোকসভা নির্বাচনের পর এবার দিল্লির রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবার দল ছাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কোচবিহারের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। লোকসভায় নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়েছেন দলের একদল বিক্ষুব্ধ সাংসদ। শুধু তাই নয়, দেশ ও রাজ্যের ইস্যুভিত্তিক উন্নয়নে তাঁরা এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থন করবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে।

অভিষেক ও আইপ্যাকের ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

দলের এই নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মূলে রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। এক সাক্ষাৎকারে জগদীশ বসুনিয়া সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, অভিষেকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের সিনিয়র নেতাদের কোণঠাসা করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে সাধারণ সাংসদদের ভাবের আদানপ্রদান করা অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং তিনি কারও কথা শুনতেন না। আইপ্যাক ও অভিষেক মিলে যে প্রার্থী বাছাই করেছিলেন, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং সেই কারণেই দলকে বহু জায়গায় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে টাকা নিয়ে টিকিট দেওয়ার মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এর কেন্দ্রীয় তদন্তও দাবি করেছেন তিনি। সাংসদের দাবি, ২০১৯ সালের পর কোচবিহারে দলের কর্মীরা আক্রান্ত হলেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো ব্যবস্থা নেননি, যা এই বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ।

তহবিল ও লোগো নিয়ে লড়াই, জাতীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব

এই বিদ্রোহের ফলে আগামী দিনে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জগদীশ বসুনিয়া স্পষ্ট করেছেন যে, গত ৮ জুন স্পিকারের দপ্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের সই সংবলিত চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে তাঁরা লোকসভায় আলাদা লবি হিসেবে বসার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দলের তহবিল এবং প্রতীকের (লোগো) মালিকানা কার, তা নিয়ে ধাপে ধাপে আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। লোকসভায় চিফ হুইপ পদের অধিকার এবং ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে এই গোষ্ঠীর দাবি যদি স্পিকারের স্বীকৃতি পায়, তবে সংসদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়বে। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধদের এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের শাসক জোটকে লোকসভায় আরও সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে, যার প্রভাব বাংলার রাজ্য রাজনীতিতেও পড়তে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *