আদালতে এলেন না মহুয়া, ডিম-টমেটো হাতে কৃষ্ণনগর আদালতে জনতার তুমুল ক্ষোভ!

কালী বিতর্কে কৃষ্ণনগর আদালতে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের হাজিরার দিনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আদালত চত্বরে। বহুল চর্চিত এই মামলায় এদিন মহুয়ার হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এদিকে সাংসদের হাজিরার খবর চাউর হতেই সকাল থেকে আদালত চত্বরে জমায়েত করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ। অভিযুক্ত সাংসদকে ‘সবক’ শেখাতে তাঁদের অনেকের হাতেই ছিল পচা ডিম, টমেটো এবং কলা। তবে শেষ পর্যন্ত মহুয়া মৈত্র না আসায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত জনতা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও আইনি জটিলতা
এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে ২০২২ সালের একটি পুরনো ঘটনা। কানাডাবাসী ভারতীয় পরিচালক লীনা মণিমেকালাইয়ের একটি তথ্যচিত্রের পোস্টারে মা কালীর বেশধারী এক চরিত্রকে ধূমপান করতে দেখা যায়। সেই বিতর্কিত পোস্টার প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর কাছে কালী হলেন এমন এক দেবী যিনি মাংস ও মদ গ্রহণ করেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কৃষ্ণনগর, কলকাতা ছাড়াও মধ্যপ্রদেশের ভোপালে মহুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসও সাংসদের পাশে দাঁড়ায়নি; বরং সাফ জানিয়ে দেয়, এই মন্তব্যের দায় সম্পূর্ণভাবে মহুয়া মৈত্রের ব্যক্তিগত।
জনক্ষোভ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতেই এদিন কৃষ্ণনগর আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল সাংসদের। বিক্ষোভকারী স্থানীয় নারীদের একাংশের মতে, দেবীকে নিয়ে করা সেই কুরুচিকর মন্তব্যের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি, বরং উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘ সময় পার হলেও মহুয়া মৈত্রের সেই বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জনমানসে ক্ষোভ এখনও কতটা টাটকা। আদালতে সাংসদের এই অনুপস্থিতি এবং আমজনতার এই মারমুখী অবস্থান আগামী দিনে কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে, এই স্পর্শকাতর ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবির শাসকদলের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বজায় রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।