ইউটিউবে গয়না ও বাড়ির ‘শো-অফ’! ওত পেতে থাকা চোরদের কাছে বুমেরাং হলো মহিলার নিজস্ব ব্লগ

ইউটিউবে গয়না ও বাড়ির ‘শো-অফ’! ওত পেতে থাকা চোরদের কাছে বুমেরাং হলো মহিলার নিজস্ব ব্লগ

শিবপুরী (মধ্যপ্রদেশ): সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং সোনা-দানার দেখনদারি যে কতটা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার এক হাড়হিম করা উদাহরণ সামনে এল মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায়। ইউটিউবে নিজের লাখ টাকার সোনার গয়না এবং বাড়ির প্রতিটি কোণার ভিডিও শেয়ার করেছিলেন রচনা গুর্জর নামে এক জনপ্রিয় গৃহবধূ ও ইউটিউবার। কিন্তু তিনি ভাবতেও পারেননি, তাঁর তৈরি সেই ব্লগই চোরদের জন্য ‘ইনভিটেশন কার্ড’ ও ‘গাইড ম্যাপ’ হয়ে উঠবে! ওই ভিডিও দেখেই ছক কষে রচনার বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি লুঠ করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে শিবপুরী জেলার নরওয়ার থানার অন্তর্গত মোহানি গ্রামে। রচনা গুর্জর একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউবে যাঁর ১ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

গভীর রাতে ঘরে বন্দি করে সর্বস্ব লুঠ:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ২টো নাগাদ যখন রচনার পরিবার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তখন একদল মুখোশধারী চোর বাড়ির ভেতরে ঢোকে। তারা প্রথমেই রচনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে লক করে দেয়। এরপর কোনো তাড়া না হুড়ো না করে, ঠাণ্ডা মাথায় সারা বাড়ি খুঁজে আলমারিতে থাকা সোনা-রুপোর গয়না ও লক্ষাধিক টাকা ব্যাগে ভরে নেয়। এমনকি ফ্রিজে থাকা এনার্জি ড্রিংকসের কার্টনও তারা সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি চুরি গেছে বলে দাবি পরিবারের। ভোর ৪টে নাগাদ ঘুম ভাঙলে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে আত্মীয়দের ফোন করেন রচনা। পরে তাঁরা এসে উদ্ধার করার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

চোরদের কায়দা দেখে তাজ্জব পুলিশ:

তদন্তে নেমে বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ চমকে যায়। দেখা যায়, চোরেরা লাঠি দিয়ে খুব সাবধানে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর মুখ উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যাতে তাদের মুখ রেকর্ড না হয়। পুলিশ মনে করছে, চোরেরা রচনার পরিচিত বা ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। কারণ, পরিবারের দৈনন্দিন রুটিন এবং বাড়ির ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল।

চোরদের যেভাবে ‘সাহায্য’ করল ইউটিউব ভিডিও:

তদন্তকারীদের মতে, এই চুরির পেছনে রচনার নিজস্ব ভিডিওগুলোই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি একটি ব্লগে রচনা তাঁর বাড়ির মেইন গেট, ভেতরের ঘর, লবি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক কোথায় কোথায় লাগানো আছে—সব স্পষ্ট দেখিয়েছিলেন। অন্য একটি ভিডিওতে তিনি তাঁর সোনা-রুপোর গয়না ও ক্যাশ টাকা টেবিলের ওপর সাজিয়ে প্রদর্শন করেছিলেন। চোরেরা সেই ভিডিওগুলো বারবার দেখে বাড়ির খুঁটিনাটি মুখস্থ করে ফেলে। সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক কোন জায়গায় আছে, তা ভিডিওতেই জেনে যাওয়ায় চোরদের পক্ষে সেগুলো এড়ানো জলভাত হয়ে গিয়েছিল। ডিজিটাল প্রাইভেসি নিয়ে সচেতন না হওয়ার এই মাশুল এখন কড়ায়-গণ্ডায় গুনতে হচ্ছে এই ইউটিউবারকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *