ভাঙনের মুখে তৃণমূল, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোপন বৈঠক!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের পারদ ক্রমশ চড়ছে। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী তথা কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বলে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে চেপে বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা তথা পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান সুদীপ। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের। এই ঘটনা তৃণমূল সুপ্রিমোকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিপর্যয়ের জেরে দলে ভাঙন
তৃণমূলের এই বর্তমান সংকটের মূল কারণ সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে দলের শোচনীয় পরাজয়। এই বিপর্যয়ের পর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ৮০ জন বিধায়কের একটি বড় অংশ নিজেদের পৃথক করে নিয়েছেন। তাঁরাই এখন ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করছেন। অন্যদিকে, লোকসভাতেও দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জন ইতিমধ্যেই এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় দলের বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত হলে বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২০।
আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণ
শনিবারের প্রাথমিক আলোচনার পর রবিবার সুদীপের শিবির বদল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আগামী সোমবার বিদ্রোহী সাংসদরা একযোগে সংসদে যাবেন। স্পিকার তাঁদের দলত্যাগ বা পৃথক গোষ্ঠীর বিষয়ে কী আইনি পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের সংসদীয় দলের ভবিষ্যৎ। এই ব্যাপক ভাঙন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলে তা একদিকে যেমন দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি তলানিতে নামিয়ে আনবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।