গলায় লোহার চেন-তালা ঝুলিয়েই ৬ কিমি পথ দৌড়! স্বামীর নৃশংস অত্যাচার দেখে শিউরে উঠল পুলিশও

গলায় লোহার চেন-তালা ঝুলিয়েই ৬ কিমি পথ দৌড়! স্বামীর নৃশংস অত্যাচার দেখে শিউরে উঠল পুলিশও

রাজগড়: খাবার দিতে সামান্য দেরি হওয়ায় স্ত্রীর ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালাল স্বামী! মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার খিলচিপুর এলাকার ছিপিপুরা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনাটি শুনে যে কারও রক্ত হিম হয়ে যাবে। পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করার পর গলায় ভারী লোহার চেন জড়িয়ে তালা মেরে ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে।

২৪ ঘণ্টা বন্দি রেখে ছ্যাঁকা, কান্নায় মুখ চেপে অত্যাচার:

নির্যাতিতা মাঙ্গী বাঈ তনওয়ার জানান, গত ১০ জুন দুপুরে তাঁর স্বামী সর্দার সিং তনওয়ার প্রচণ্ড মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে। সামান্য তর্কাতর্কির জেরে স্ত্রীকে টানা ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখে সে। এখানেই শেষ নয়, নিষ্ঠুরতার সীমা পেরিয়ে স্বামী গ্যাস ওভেনে লোহার রড গরম করে স্ত্রীর পা ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেয়। যন্ত্রণায় ছটফট করে চিৎকার করতে গেলে তাঁর মুখ চেপে ধরা হতো। অত্যাচারের পর অভিযুক্ত হুমকি দেয়, “এবার দেখি তুই কীভাবে পুলিশের কাছে যাস!”

গলায় চেন নিয়েই জঙ্গল চিরে ৬ কিলোমিটার দৌড়:

এই ভয়ঙ্কর নরককুণ্ড থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন ওই মহিলা। সুযোগ বুঝে ঘরের খুঁটির সাথে থাকা তালাটি কোনওরকমে ভেঙে ফেলেন তিনি। এরপর গলায় লোহার চেন এবং তালা ঝুলন্ত অবস্থাতেই রাতের অন্ধকারে গভীর জ জঙ্গলের মধ্য দিয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পালান। রাত ১০টা নাগাদ চরম আতঙ্কিত ও অর্ধচেতন অবস্থায় খিলচিপুর থানায় পৌঁছান তিনি। ওই মহিলার গলায় চেন আর ঝুলন্ত তালা দেখে ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীরাও স্তম্ভিত হয়ে যান।

জানা গেছে, ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি সন্তান হলেও মাত্র তিন মাস বয়সে সে মারা যায়। তারপর থেকেই স্বামী প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাত।

পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার:

খিলচিপুর থানার ইনচার্জ কমল সিং গেহলট জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি দেখার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রথমে নির্যাতিতা মহিলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী সর্দার সিং তনওয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *