সারাজীবনই গর্ভবতী! প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাচ্চার জন্ম দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে এই ‘আজব মা’

সারাজীবনই গর্ভবতী! প্রতি ৩ সেকেন্ডে বাচ্চার জন্ম দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে এই ‘আজব মা’

প্রকৃতির বুকে এমন কিছু অদ্ভুত জীব রয়েছে, যাদের জীবনযাত্রার কথা শুনলে নিজের কানকেও বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদি আপনাকে বলা হয়, এই পৃথিবীতে এমন এক মা আছেন যিনি তাঁর গোটা জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নেন না, বরং সারাজীবন ধরে শুধু সন্তানের জন্মই দিয়ে যান—তবে আপনি নিশ্চয়ই আকাশ থেকে পড়বেন!

কিন্তু এটাই চরম সত্যি। এখানে কোনো মানুষের কথা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে ‘রানি উইপোকা’ (Queen Termite) সম্পর্কে। পৃথিবীর বুকে মায়েদের তালিকায় একে অন্যতম রহস্যময় ও বিস্ময়কর বলে মনে করা হয়।

৫০ বছরের দীর্ঘ সফর ও কোটি কোটি সন্তানের জন্ম:

একটি রানি উইপোকা প্রায় ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ জীবনকাল ধরে সে অবিরাম গর্ভবতী থাকে। একটি রানি উইপোকা প্রতি ৩ সেকেন্ডে একটি করে ডিম পাড়ে। সেই হিসেবে দিনে প্রায় ৩০,০০০ ডিম পাড়ে সে। আর নিজের পুরো জীবনচক্রে জন্ম দেয় কোটি কোটি সন্তানের।

ডিমে ভর্তি থাকার কারণে রানি উইপোকার পেট এতটাই ভারী ও বিশাল হয়ে যায় যে, সে নিজে থেকে এক চুলও নড়তে পারে না। ফলে এক জায়গাতেই বন্দি হয়ে থাকতে হয় তাকে। আর বাকি শ্রমিক উইপোকারা তাকে খাবার খাওয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডিমগুলোকে সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ করে।

একা হাতে গড়ে তোলে বিশাল সাম্রাজ্য:

বিজ্ঞানীদের মতে, উইপোকাদের একটি পুরো কলোনি বা সাম্রাজ্যের সাফল্য নির্ভর করে এই রানির ওপর। শুরুতে ছোট আকারে থাকা এই কলোনি রানির অনবরত ডিম পাড়ার কারণে কয়েক লাখের সংখ্যায় পৌঁছে যায়। এই কলোনি তৈরি করা, খাবার জোগাড় করা, রানির দেখভাল এবং সুরক্ষার জন্য বাকি উইপোকাদের মধ্যে কাজ ভাগ করা থাকে।

সাধারণত যেকোনো পোকামাকড় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস বাঁচে, কিন্তু রানি উইপোকার দশকের পর দশক বেঁচে থাকা বিজ্ঞানের কাছে এক বড় চমক। আফ্রিকার কিছু প্রজাতির রানি উইপোকা টানা ৫০ বছর ধরে ডিম পেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, তাদের পুরো জীবনটাই কাটে গর্ভবতী অবস্থায়।

সাধারণ মানুষ উইপোকাকে কেবল কাঠ নষ্টকারী পোকা হিসেবেই চেনে। কিন্তু জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এরা প্রকৃতির এক পরম বিস্ময়। বর্তমানে এই রানি উইপোকার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *