তীব্র দাবদাহের মধ্যে খুলল স্কুল, ফের কি বাড়তে চলেছে গরমের ছুটি?

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বর্ষা দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে গরমের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের কোনো সম্ভাবনা নেই। এই চরম অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যেই ১৫ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে পুনরায় স্কুলগুলোর স্বাভাবিক পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সিলেবাস শেষের তাগিদ রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি তীব্র গরমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা।
ছুটি বৃদ্ধি বনাম সময় পরিবর্তনের জল্পনা
অসহনীয় গরম ও সম্ভাব্য তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ছুটি ঘোষণার দাবি জোরদার হচ্ছে। অতীতেও এমন নজির রয়েছে যেখানে ছুটি শেষে স্কুল খোলার পর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পুনরায় ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা দপ্তর বা সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো ছুটির নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। এর ফলে ধোঁয়াশা ও জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক সংগঠন পঠনপাঠন পুরোপুরি বন্ধ রাখার পরিবর্তে ক্লাসের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে তীব্র দুপুরের আগেই শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে।
বিকাশ ভবনের নয়া নির্দেশিকা ও জেলাভিত্তিক সিদ্ধান্ত
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কদিন আগেই বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সামগ্রিকভাবে রাজ্য জুড়ে ছুটি না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার আবহাওয়া ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের বিদ্যালয়ের জন্যই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় আবহাওয়া অনুযায়ী সকালের শিফটে বা সুবিধাজনক সময়ে ক্লাস পরিচালনার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে কোনো কেন্দ্রীয় ছুটি ঘোষিত না হলেও, স্থানীয় স্তরে সময়সূচির এই পরিবর্তনই এখন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।