সম্মান না পেলে তৃণমূল ছাড়ার হুঁশিয়ারি অনুব্রতের, বীরভূমের বেসুরো নেতাকে কাছে টানতে সবুজ সংকেত কংগ্রেসের!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিপর্যয়ের আবহে বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনুব্রত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলে উপযুক্ত সম্মান না পেলে তিনি আর সেখানে থাকবেন না। অনুব্রতের এই ‘বেসুরো’ মন্তব্যের পরই তাঁকে পুনরায় দলে ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ ও আইপ্যাক বিতর্ক
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর অনুব্রত মণ্ডল দলের বর্তমান রণকৌশল ও নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ২০১১ বা ২০১৪ সালের মতো অতীতে যখন তৃণমূল বড় সাফল্য পেয়েছিল, তখন কোনো পেশাদার সংস্থার প্রয়োজন হয়নি। আইপ্যাকের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং তৃণমূল সাধারণ মানুষের থেকে দূরে সরে গেছে। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুব্রত বলেন, কংগ্রেসকে চটানোই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ সময়ে ভুল সিদ্ধান্তের পাল্লায় পড়েছেন এবং অনুব্রতকে এবার ভোটের দায়িত্ব থেকেও দূরে রাখা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কংগ্রেসের শর্তসাপেক্ষ সবুজ সংকেত ও দলবদলের হাওয়া
অতীতে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে আসা অনুব্রত মণ্ডলের এই সুর বদলের পরই তাঁকে পুরোনো ঘরে ফেরাতে আগ্রহ দেখিয়েছে হাত শিবির। বীরভূম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় রামপুরহাটের এক দলীয় কর্মসূচি থেকে অনুব্রত প্রসঙ্গে জানান, অতীতে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অনুব্রত মণ্ডল অত্যাচার করলেও, কর্মীরা যদি তাঁকে ক্ষমা করে দেন তবে তাঁকে দলে নিতে কংগ্রেসের কোনো আপত্তি নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেস কৌশলে বল অনুব্রতের কোর্টেই ঠেলে দিল। এদিকে রামপুরহাটের ওই কর্মসূচিতেই ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে প্রায় সাড়ে তিনশো কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসে যোগদান করেছেন, যার মধ্যে অনেক ‘ঘরওয়াপসি’ করা নেতাও রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
অনুব্রত মণ্ডলের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার এই অবস্থান বীরভূম তথা সমগ্র রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেন, তবে বীরভূমে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত মারাত্মকভাবে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, এই ভাঙন গ্রাস করলে লোকসভা বা পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে কংগ্রেস নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে। অনুব্রতের এই ক্ষোভ এবং কংগ্রেসের নমনীয় মনোভাবের ফলে জেলা রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।