বক্স অফিসে কঙ্গনার নতুন বিপর্যয়, তিন দিনে মাত্র ৪ কোটিতেই থমকে গেল ভারত ভাগ্য বিধাতা!

কঙ্গনা রানাউত অভিনীত ও সহ-প্রযোজিত নতুন চলচ্চিত্র ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে আসা ছবিটি দর্শক টানতে না পারায় প্রথম তিন দিনে ভারতের বাজারে এর মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.০৩ কোটি টাকা। মুক্তির প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্রবার ১ কোটি টাকা দিয়ে খাতা খোলার পর শনিবার ১.৪৫ কোটি এবং রবিবার আনুমানিক ১.৫৮ কোটি টাকা আয় করে ছবিটি। সপ্তাহান্তের ছুটির দিনেও আয়ের গ্রাফে বড় কোনো লাফ না দেখায় চলচ্চিত্রটির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
ব্যর্থ প্রচার কৌশল ও তীব্র প্রতিযোগিতা
ছবির ব্যবসা চাঙ্গা করতে নির্মাতারা দেশজুড়ে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ (একটি কিনলে একটি ফ্রি) টিকিটের আকর্ষণীয় অফার চালু করেছিলেন। এর পাশাপাশি ছবির সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি এবং হরিয়ানা সরকার এটিকে করমুক্ত ঘোষণা করে। তবে এই সমস্ত সরকারি সুবিধা ও বিপণন কৌশলও দর্শকদের সিনেমা হলে টানতে পারেনি। ভরাডুবির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সপ্তাহান্তেই ছবির স্ক্রিন সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া। শনিবার যেখানে দেশজুড়ে ১,৯৫৬টি শো ছিল, রবিবার তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭৯৪-এ। এর সাথে যোগ হয়েছে ‘ম্যায় वापस আউঙ্গা’, ‘গভর্নর’ এবং ‘হন্টেড থ্রিডি: একোস অফ দ্য পাস্ট’-এর মতো একাধিক নতুন ছবির মুক্তি, যার ফলে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এই ছবি।
বাস্তব বীরত্বের গল্প ও তারকা বহর
মণিকর্ণিকা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটি মূলত ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার একটি সংবেদনশীল ও বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের কামা হাসপাতালের সাহসী নার্স অঞ্জলি কুলথে এবং তাঁর সহকর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ছবির কাহিনি সাজানো হয়েছে। জঙ্গি হামলার সেই ভয়াবহ সময়ে চিকিৎসক ও নার্সরা কীভাবে নিজেদের জীবন বাজি রেখে গর্ভবতী মহিলা, নবজাতক এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের রক্ষা করেছিলেন, তা-ই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কঙ্গনা রানাউত ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে এবং এষা দে।
প্রথম সপ্তাহান্তের এই মন্দা ট্রেন্ডের কারণে আগামী দিনগুলোতে ছবিটির বক্স অফিস টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সংখ্যা যেভাবে হ্রাস পেয়েছে, তাতে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আয়ের ওপরই এখন ছবিটির চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ভর করছে।