ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না কাশির সিরাপ! ওষুধ কেনার নিয়মে ঐতিহাসিক বদল কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ওষুধ বিক্রির নিয়মে এক যুগান্তকারী বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে আর সামান্য সর্দি-কাশির সিরাপও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে কেনা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের এক বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সমস্ত ধরনের তরল ওষুধ বা সিরাপ কেনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শপত্র (Prescription) দেখানো বাধ্যতামূলক। ওটিসি বা ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ কেনার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে এই ধাক্কা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে ও অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নয়া নীতিটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ওষুধের দোকানগুলিতে এই নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। মূলত শিশুদের ক্ষেত্রে কাশির সিরাপের অতিরিক্ত সেবন রোধ করা এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা ড্রাগ-যুক্ত সিরাপের অপব্যবহার কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
আইনে কী বদল এলো?
সরকারি বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ‘ড্রাগস (পঞ্চম সংশোধন) নিয়ম, ২০২৬’-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গত ৯ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রক দ্বারা জারি করা হয়েছিল। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে ড্রাগস আইন, ১৯৪৫-এর ‘তফসিল কে’ (Schedule K) থেকে ‘সিরাপ’ (Syrups) শব্দটিকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এতকাল ‘তফসিল কে’-র অধীনে থাকায় সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের কঠিন নিয়মকানুন থেকে কিছু ছাড় মিলত। কিন্তু এখন থেকে সিরাপ কিনতে গেলে প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অন্যান্য কড়া ওষুধের মতোই কঠোর নিয়ম মানতে হবে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
ভারতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সর্দি-কাশির জন্য সরাসরি ওষুধের দোকানে গিয়ে সিরাপ কিনে নেওয়ার এক মারাত্মক প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যথেচ্ছ সিরাপ পানের কারণে ভুল প্রয়োগ, ড্রাগের আসক্তি এবং লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রুখে রোগীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতেই ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড (DTAB)-এর সাথে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিয়ম ভাঙলে কড়া শাস্তি:
নতুন এই আইন শতভাগ কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফার্মেসিগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ক্রেতার কাছে প্রেসক্রিপশন না থাকলে কোনও অবস্থাতেই সিরাপ বিক্রি করা যাবে না। নিয়ম অমান্য করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া সিরাপ বিক্রি করলে ড্রাগ ইন্সপেক্টরের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিল করার মতো শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িকভাবে সামান্য সর্দি-কাশির সমস্যাতেও ডাক্তারের ফি দিয়ে প্রেসক্রিপশন বানিয়ে ওষুধ কেনা সাধারণ মানুষের পকেটে টান ফেললেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, নামমাত্র খরচের চেয়ে সঠিক ওষুধের সঠিক ডোজ জানা জীবনের সুরক্ষার জন্য অনেক বেশি জরুরি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক স্তরেও এই কঠোর নজরদারি ভারতের তৈরি করা ওষুধের গুণগত মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।