‘মুসলিম পাড়ায়’ মাত্র ৫ ভোট তৃণমূলের! রাজারহাট-নিউটাউনের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তাপস

‘মুসলিম পাড়ায়’ মাত্র ৫ ভোট তৃণমূলের! রাজারহাট-নিউটাউনের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তাপস

কলকাতা: ভবানীপুরের পর এবার রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা নিয়ে শুরু হলো বড়সড় আইনি লড়াই। মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর, নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। আদালতে ভোট পুনর্গণনা (Recounting) এবং ভোট সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও রেকর্ড সুরক্ষায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

তৃণমূলের অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছে একটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথের ‘অস্বাভাবিক’ ফলাফল। শাসকদলের দাবি, সংশ্লিষ্ট বুথটি স্থানীয়ভাবে ‘মুসলমান পাড়া’ নামে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৫টি ভোট!

১৬৪ নম্বর বুথ ঘিরে তীব্র বিতর্ক:

রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে গণনার শুরু থেকেই তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানৌড়িয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। তৃণমূলের দাবি, ১৭ দফা গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত তাপস এগিয়েই ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্বে ১৬৪ নম্বর বুথের ফল প্রকাশ হতেই হঠাৎ বদলে যায় পুরো সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গণনার শুরুতে ওই বুথের ইভিএম (EVM) ছোঁয়া হয়নি। একদম শেষ পর্যায়ে এসে তড়িঘড়ি খুব দ্রুততার সাথে সেই বুথের ভোট গোনা শেষ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে খটকা:

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ১৬৪ নম্বর বুথে মোট ৬৫৬টি ভোট পড়েছিল। যার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ৬৩৭টি ভোট এবং তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৫টি। অর্থাৎ, সংখ্যালঘু প্রধান বুথের প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোটই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে!

এই পরিসংখ্যান নিয়েই তীব্র আপত্তি তুলেছে ঘাসফুল শিবির। তাদের যুক্তি, এই ফলাফল রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না। প্রমাণ হিসেবে তারা ঠিক পাশের ১৬৫ নম্বর বুথের উদাহরণ দিয়েছে, যেখানে ৯১ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩২টি ভোট এবং বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল ও বামেরা।

পাশাপাশি দুটি সংখ্যালঘু বুথের ফলাফলে এমন আকাশ-পাতাল ফারাক কী করে সম্ভব, তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে এবার আদালতের দরজায় কড়া নাড়লেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। এখন আদালত এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *