ঋতুমতী হবেন ধরিত্রী মাতা, ২২ জুন থেকে শুরু অম্বুবাচী উৎসব!

ঋতুমতী হবেন ধরিত্রী মাতা, ২২ জুন থেকে শুরু অম্বুবাচী উৎসব!

হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী যা আঞ্চলিকভাবে অমাবতী বা রজঃউৎসব নামেও পরিচিত। চলতি বছর ২২ জুন, সোমবার (৭ আষাঢ়) রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে অম্বুবাচী প্রবৃত্তি বা শুরু হতে চলেছে। এই উৎসবের নিবৃত্তি বা সমাপ্তি ঘটবে ২৬ জুন, শুক্রবার (১১ আষাঢ়) রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে।

ধরিত্রী মাতার ঋতুমতী হওয়ার তাৎপর্য

হিন্দু শাস্ত্র ও বেদ অনুযায়ী পৃথিবীকে মাতা হিসেবে আরাধনা করা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন। একজন পূর্ণবয়স্কা নারীর মতোই এই ঋতুকালীন চক্র পৃথিবীর সন্তান ধারণ অর্থাৎ শস্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অম্বুবাচীর পর ধরিত্রী শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠেন। এই তিনদিন পৃথিবী অশুচি থাকেন বলে বিশ্বাস করা হয়, যার প্রভাবে এই সময়কালে সমস্ত রকম কৃষিকাজ এবং মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। মন্দির ও বাড়ির ঠাকুরঘরে থাকা মাতৃশক্তির প্রতিমা বা ছবি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার নিয়ম রয়েছে।

কামাখ্যায় মহোৎসব ও সন্ন্যাসীদের ব্রতপালন

অম্বুবাচীর দিনগুলিতে ব্রহ্মচারী, সাধু-সন্ন্যাসী এবং বিধবা মহিলারা বিশেষ নিয়ম মেনে ব্রত পালন করেন। এই সময়ে তাঁরা আগুনের আঁচে রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন না, কেবল ফলমূল খেয়ে দিন কাটান। তিনদিন পর স্নান সেরে এবং সমস্ত ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানা ধুয়ে শুদ্ধ হওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। সতীপীঠ আসামের কামাখ্যা মন্দিরে, যেখানে সতীর গর্ভ ও যোনি পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়, সেখানে এই উপলক্ষে তিন দিন ধরে মহামেলা ও বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয় এবং দেশ-বিদেশের বহু ভক্তের সমাগম ঘটে। তবে এর ব্যতিক্রম দেখা যায় বীরভূমের তারাপীঠে। তারাপীঠ সতীপীঠ নয়, বরং একটি সাধন ক্ষেত্র হওয়ায় অম্বুবাচীর সময়ও সেখানে মন্দিরের দ্বার খোলা থাকে এবং মা তারার নিত্য পুজো, ভোগ ও আরতি স্বাভাবিক নিয়মেই সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *