G.O.A.T আর ছাগলের তফাৎ! মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকের পর ফের তোপের মুখে অরূপ বিশ্বাস

বিশ্বকাপ ফুটবলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির অনবদ্য হ্যাটট্রিকের পরই রাজ্য রাজনীতিতে ফিরে এসেছে গত ডিসেম্বরের বিতর্কিত ‘মেসি কাণ্ড’। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টাইন মহাতারকার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার জোয়ারে ভাসালেও, কলকাতায় তা উসকে দিয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও ব্যঙ্গবিদ্রুপ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের ঝড়
বিশ্বকাপে মেসির এই চোখধাঁধানো সাফল্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর নিশানায় যে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তা স্পষ্ট। গত বছর কলকাতায় মেসিকে জোর করে ধরে ছবি তোলার প্রসঙ্গ টেনে এনে ঋদ্ধি তাঁর পোস্টে লেখেন যে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আশ্চর্যকে মাঠের মধ্যে হ্যাঁচকা মেরে টেনে নিয়ে তাঁর কোমর জড়িয়ে ছবি তোলা যায় না। তিনি আরও যোগ করেন, সম্ভবত এটাই G.O.A.T (সর্বকালের সেরা) এবং Goat (ছাগল)-এর মধ্যে তফাৎ। এই মন্তব্যের মাধ্যমে প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র শ্লেষ করেছেন অভিনেতা। ঋদ্ধির পাশাপাশি অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘ভাইফোঁটা’ উৎসবকে ইঙ্গিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরোক্ষ কটাক্ষ করেছেন।
মেসি কাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা
গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে একঝলক দেখার জন্য দর্শকরা চড়া দামে টিকিট কাটলেও চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার কারণে সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই মহাতারকা। এর জেরে ক্ষুব্ধ দর্শকদের ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় সেই সময় মুখ পুড়েছিল রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনের। শুরু থেকেই মাঠে মেসির সঙ্গে থাকা এবং তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলার কারণে মূল অভিযোগের আঙুল ওঠে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী রূপ নিয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ‘মেসি কাণ্ড’ ঘিরেই এখন আইনি জটে জর্জরিত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। গোটা ঘটনার দায়ভার তৎকালীন সরকার আয়োজকদের ঘাড়ে চাপালেও, বর্তমানে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশি হাজিরা এড়িয়ে চলেছেন অরূপ বিশ্বাস এবং তিনি এখন কার্যত বেপাত্তা। একদিকে বিশ্বমঞ্চে মেসির এই ঐতিহাসিক সাফল্য যেমন উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক তেমনই তা রাজ্যের বুকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব ও প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।