অর্জুন সিংয়ের তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কাজে ফিরলেন জগদ্দলের দুই হাজার জুটমিল কর্মী

অর্জুন সিংয়ের তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কাজে ফিরলেন জগদ্দলের দুই হাজার জুটমিল কর্মী

দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে গেল জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিল। নতুন শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই অর্জুন সিংয়ের বিশেষ উদ্যোগে এই জট কেটেছে। গত মঙ্গলবার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে শ্রমমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে উক্ত বৈঠকেই মিল খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বুধবার থেকেই শ্রমিকরা কারখানায় কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। আচমকা কাজ হারিয়ে চরম আর্থিক অনটনে পড়া প্রায় দু’হাজার শ্রমিকের পরিবারে এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

যে কারণে নেমে এসেছিল অন্ধকার

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর জুটমিল কর্তৃপক্ষ আচমকা ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস ঝুলিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়। কোনো আগাম আভাস ছাড়া মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক লহমায় কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। দীর্ঘ পাঁচ মাস কাজ না থাকায় কুলি লাইনের বাসিন্দা ও সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সংসার চালাতে অনেককে বিপুল পরিমাণ ধারদেনা করতে হয়েছে, কেউ কেউ পেটের তাগিদে গ্রামে ফিরে গেছেন আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য কাজের সন্ধান করেছেন। নির্বাচনের আগে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে অর্জুন সিংয়ের দ্বারস্থ হলে তিনি ভোটের পর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রভাব

নতুন শ্রমমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করেন এবং বন্ধ কলকারখানাটি সচল করার ব্যবস্থা নেন। বুধবার মিল খোলার পর বহু শ্রমিক বিপুল উৎসাহের সাথে কাজে যোগ দিয়েছেন। কারখানা চত্বরে দিনভর ছিল উৎসবের মেজাজ এবং শ্রমিকরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জুটমিলটিতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। এই মিলটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের কর্মহীনতার কারণে শ্রমিক পরিবারগুলোর ওপর যে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *