৮ মাসের মাথায় ফের বিপর্যস্ত পাহাড়, দুধিয়ার সেতু ভেসে গিয়ে বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি ও মিরিক!

টানা মুষলধারে বৃষ্টির জেরে আট মাসের ব্যবধানে আবারও বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল উত্তরবঙ্গ। গত অক্টোবর মাসের ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি নদী বালাসনের তীব্র স্রোতে কার্শিয়াংয়ের দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। এর ফলে শুক্রবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। একই সঙ্গে ধসের কারণে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রুটও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বালাসনের তাণ্ডব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা
আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে সত্যি করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ে শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত। শুক্রবার সকালের মধ্যে পাহাড় ও সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জলরাশির কারণে পাহাড়ি নদী বালাসনের জলস্তর হু হু করে বেড়ে যায় এবং প্রবল স্রোতের টানে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে পড়ে। মাত্র আট মাস আগেই এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখানকার মূল সেতুটি ভেঙে গিয়েছিল। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অস্থায়ী সেতুটি ভেসে যাওয়ায় মিরিক ও শিলিগুড়ির যোগাযোগ এখন সম্পূর্ণ স্তব্ধ। পাশাপাশি, কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে নিচে পড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
ধস ও বিদ্যুৎহীনতার প্রভাব
টানা বৃষ্টির জেরে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কসহ পাহাড়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে এবং একাধিক জায়গায় নতুন করে ধস নেমেছে। এর ফলে যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ধসের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে ঘুরতে আসা বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কপথে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আটকে থাকা পর্যটকদের এখন সুখিয়াপোখরি হয়ে দীর্ঘ ঘুরপথে শিলিগুড়ি ফিরতে হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটক উভয়ের মধ্যেই চরম আতঙ্ক কাজ করছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও লাল সতর্কতা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পর্যটকদের সহায়তা দিতে পর্যটন দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সার্বিক নজরদারির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার জন্য ১৮০০-২১২১-৬৫৫ (টোল-ফ্রি) এবং ০৩৫৩-২৫১৩৯৮৬ হেল্পলাইন নম্বর দুটি চালু করা হয়েছে। তবে পাহাড়ের এই দুর্ভোগ এখনই কাটার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত জারি থাকবে। বিশেষ করে ২০ জুন, শনিবার উত্তরের দুটি জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি করা হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তুলতে পারে।