শহিদ দিবসের আগেই আইনি জট, দল ভাঙনের আবহে দ্বিগুণ চাপে মমতা ও অভিষেক

সামনে আর মাত্র মাসখানেক সময়। তার আগেই ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশ নিয়ে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় মূল রাস্তা আটকে এই মেগা সমাবেশ করার জেরে এবার সরাসরি আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা বনাম ধর্মতলার সমাবেশ
মামলার সূত্রপাত মূলত কলকাতা হাইকোর্টের একটি পুরনো রায়কে কেন্দ্র করে। ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনও সরকারি জায়গা বা মূল রাস্তা বন্ধ করে কোনও রকম সভা অথবা মিছিল করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে কার্যত উপেক্ষা করেই প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিপুল আয়োজন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছে, বছরের এই একটি দিনই তারা বড় আকারে কর্মসূচি পালন করে। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা বন্ধ রাখার এই অভ্যাসের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়, যার শুনানিতে আগামী ৩ জুলাই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে আদালত।
রাজনৈতিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আইনি জটিলতা এমন এক সময়ে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি দলটিতে এখন তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়করা দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছেন এবং লোকসভার ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। এই নজিরবিহীন সাংগঠনিক ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আবহে আদালত অবমাননার নোটিস দলীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। একদিকে আইনি কড়াকড়ি, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পড়ে এবার ধর্মতলার শহিদ দিবস সমাবেশ আদৌ কতটা সফল করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।