কাশীপুরে গভীর রাতে গোলাগুলি ও লুঠপাট! পুলিশের জালে ৬ নাবালক-সহ ৯ ডাকাত

কলকাতার বুকে রাতের অন্ধকারে দুঃসাহসিক ডাকাতি এবং সেই ঘটনায় সশস্ত্র নাবালকদের সরাসরি যুক্ত থাকার খবর শহরের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কাশীপুর এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ আবাসন প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুঠপাটের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) ৯ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ৬ জনই নাবালক।
নদীপথে এসে সশস্ত্র হামলা
গত ১৮ জুন গভীর রাতে কাশীপুর থানা এলাকার রুস্তমজি পারসি রোডের ওই নির্মীয়মাণ আবাসন প্রকল্পে নদীপথ ব্যবহার করে হানা দেয় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, ভিতরে ঢুকেই তারা কর্তব্যরত কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রকল্পের নিজস্ব দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীও পালটা গুলি চালান। তবে শেষ পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা কংক্রিটের পাইপ, লোহার রড এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম-সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী লুঠ করে পুনরায় নদীপথেই চম্পট দেয়। নির্মাণ সংস্থার তরফ থেকে কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে লালবাজার। দ্রুত সিট গঠন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
অপরাধে নাবালকদের ব্যবহার ও শহরের সুরক্ষায় প্রভাব
তদন্তে নেমে রাতেই তল্লাশি চালিয়ে এই ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুঠ হওয়া সামগ্রীর বেশ কিছু অংশ উদ্ধার হলেও হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের এখনও খোঁজ মেলেনি। তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডাকাত দলে এত সংখ্যক নাবালকের উপস্থিতি নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনের ফাঁক গলে শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে এবং সহজে মগজধোলাই করার সুবিধার কারণেই অপরাধ জগতের মূল পাণ্ডারা সচেতনভাবে নাবালকদের ব্যবহার করছে। শহরে এ ধরনের ‘কিশোর গ্যাং’-এর উত্থান আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই কিশোরদের গ্যাংটি কীভাবে তৈরি হলো এবং এর নেপথ্যে কোন বড় চক্র কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।