শতাব্দীর বাড়িতে বিদ্রোহীদের গোপন বৈঠক, অভিষেকের দিল্লি সফরের আগেই পাল্টা চাল এনসিপিআই-এর!

বাংলার পাশাপাশি এবার দিল্লির বুকেও তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের খেলা শুরু হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে হঠাৎ গঠিত হওয়া নতুন দল এনসিপিআই (NCPI)-তে এক ঝাঁক সাংসদের যোগদানের ঘটনায় রাজনৈতিক মহল উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইভোল্টেজ বৈঠকের ঠিক আগেই নিজেদের রণকৌশল সাজাতে বৃহস্পতিবার রাতে সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠকে বসেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। সূত্রের খবর, এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইনি লড়াই ও পাল্টা কৌশলের প্রস্তুতি
তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই আকস্মিক ভাঙনকে অবৈধ দাবি করে এবং বিদ্রোহীদের আলাদা ব্লকের স্বীকৃতি না দিতে লোকসভার স্পিকারকে আগেই চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই স্পিকার ওম বিড়লা অভিষেককে সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন। তবে অভিষেক স্পিকারের দরবারে পৌঁছানোর আগেই এনসিপিআই সাংসদরা পাল্টা চাল তৈরি করে ফেলেছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে যে যে আইনি ও রাজনৈতিক যুক্তি খাড়া করতে পারেন, তার মোক্ষম প্রত্যুত্তর আইনি পথেই দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হতেও পিছপা হবেন না এই বিক্ষুব্ধ অংশটি।
জনতার দরবারে জবাবদিহি ও বাদল অধিবেশনের লক্ষ্য
হঠাৎ করে নাম না জানা একটি নতুন দলে যোগ দেওয়ায় সমাজমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ ও জনরোষের মুখে পড়ছেন দলত্যাগী সাংসদরা। এই আবহে নিজেদের সংসদীয় এলাকার ভোটারদের কাছে দলবদলের কী যৌক্তিকতা তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সামনেই সংসদের বাদল অধিবেশন, যেখানে এই নতুন ব্লকের জন্য আলাদা ঘরের বন্দোবস্তও করা হচ্ছে। ফলে অধিবেশনে দলত্যাগী সাংসদদের যৌথ কৌশল কী হবে এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারা কতটা আগ্রাসী ভূমিকা নেবেন, তার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা এই বৈঠক থেকেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে দিল্লির বুকে বাংলার এই রাজনীতির গতিপ্রকৃতি।