গিল্ডের আধিপত্যে কোপ! কলকাতা নয় এবার ‘বাংলার বইমেলা’ চান সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ প্রকাশকরা

আগামী বছরের ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার ডাক দিল সঙ্ঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ প্রকাশক, মুদ্রক ও বই বিক্রেতাদের সংগঠন ‘বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ’। তাদের দাবি, এই মেলাকে শুধুমাত্র একটি সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এবং কলকাতার গণ্ডিতে আটকে না রেখে প্রকৃত অর্থে সবার জন্য উন্মুক্ত ‘বাংলার বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মঞ্চ প্রস্তুত মহাজাতি সদনে
আগামী ২৯ জুন কলকাতার মহাজাতি সদনে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সেখানে প্রকাশনা শিল্পের ৭০০-রও বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের বইমেলার ভবিষ্যৎ, আয়োজন ও পরিচালনা নিয়ে সেখানে বিশদ আলোচনা হবে। অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আরএসএস-এর পূর্ব ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু এবং কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আয়োজন করে আসছে ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড’। বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ ও বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, গিল্ডের পরিচালনায় কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রকাশনা সংস্থার একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে এবং পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে মেলায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হতো। গিল্ডের এই নিয়ন্ত্রণ ভাঙার উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে বইমেলার পরিচালন ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে জেলার বঞ্চিত ছোট প্রকাশক ও প্রকাশনা সংস্থাগুলি আগামীতে বইমেলায় আরও বেশি সুযোগ পেতে পারে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের বদলে বইয়ের মানের নিরিখে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে পারে।