স্বাস্থ্যকর ভেবে রোজ এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করছেন? অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

স্বাস্থ্যকর ভেবে রোজ এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করছেন? অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

বাঙালির রান্নাঘরে বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় সংযোজন হলো এয়ার ফ্রায়ার। তেল ছাড়া বা সামান্য তেলে রান্নার সুবিধা থাকায় অনেকেই একে মেদ ঝরানো ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ধরে নিয়েছেন। গরম বাতাসকে কাজে লাগিয়ে খাবারকে মুচমুচে করে তোলার এই প্রযুক্তিতে ডিপ ফ্রাইয়ের তুলনায় ক্যালোরি অনেকটাই কম থাকে। ফলে রান্না না জানা মানুষও অনায়াসেই এর প্রতি ঝুঁকছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই যেকোনো খাবার রাতারাতি স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে না, বরং পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে ব্যবহৃত উপকরণের ওপর।

যে কারণে এয়ার ফ্রায়ার মানেই স্বাস্থ্যকর নয়

মূল সমস্যাটি তৈরি হয় খাবারের উপকরণের কারণে। হিমায়িত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নাগেটস বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি করলেও এর ক্ষতিকর দিকগুলো থেকেই যায়। প্রসেসড খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ এবং ফ্যাট এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করার পরও অপরিবর্তিত থাকে। অন্যদিকে, ডিপ-ফ্রাই না হওয়ার কারণে অনেক সময় খাবারের ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা পরবর্তীতে গুরুতর হজমজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।

সতর্কতা ও সঠিক ব্যবহারের নিয়ম

এয়ার ফ্রায়ারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে সবসময় তাজা উপকরণ ব্যবহার করা। সরাসরি যন্ত্রের ভেতর খাবার না রেখে সিলিকন লাইনার বা পার্চমেন্ট পেপার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া, প্রতিবার ব্যবহারের পর ভেতরের লাইনার ভালোভাবে পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিন ধরে খাবারের কণা জমে থাকলে সেখানে ফাঙ্গাস তৈরি হতে পারে, যা থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। রান্নার আগে যন্ত্রটি প্রি-হিট করে নিলে দীর্ঘক্ষণ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার প্রয়োজন হয় না, যা খাবার ও যন্ত্র উভয়ের জন্যই নিরাপদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *