কাটমানি রুখতে বড় পদক্ষেপ, রাজ্যে সংশোধিত হলো পঞ্চায়েত আইন!

কাটমানি রুখতে বড় পদক্ষেপ, রাজ্যে সংশোধিত হলো পঞ্চায়েত আইন!

রাজ্যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে এবং পঞ্চায়েতের পরিষেবা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অবশেষে পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করল রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভায় বিপুল ভোটে পাশ হয়ে গেল পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল।

বিল পেশের সময় শাসকদলের তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনামলে অংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের পরিবর্তে ‘বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত’ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেন্ডারে কাটমানি খাওয়া এবং টাকা আত্মসাৎ ছিল প্রধানদের অতিরিক্ত ক্ষমতারই ফল।

নতুন সংশোধিত বিলে রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে প্রশাসনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান এবং জি রাম জির মতো জনপ্রিয় ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা ছাড়ার বিষয়টি আরও স্বচ্ছ করা হয়েছে।

আইনের পরিবর্তনের মূল বিষয় তুলে ধরে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় জানান, “সংবিধানের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি, কাটমানি খাওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, প্রধান শুধু অনুমতি দেবেন, কিন্তু বিলে সই করবেন সেক্রেটারি। বিডিও, এসডিও ও ডিএম-এর মতো আধিকারিকদের পাশাপাশি সেক্রেটারি সই করলে গরিব মানুষের টাকা আত্মসাৎ বা কাটমানি নেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

শনিবার বিধানসভায় এই সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার পর ভোটাভুটিতে তা বিপুল সমর্থন পায়। বিলের পক্ষে ১৬৯টি ভোট এবং বিপক্ষে ১৩টি ভোট পড়ে, এছাড়া ৩২ জন অনুপস্থিত ছিলেন। বিপক্ষের ১৩টি ভোটের মধ্যে ৯ জন কালীঘাটের বিধায়ক এবং বাকি ৪ জনের মধ্যে নওশাদ সিদ্দিকী, সিপিএম ও কংগ্রেসের ২ জন বিধায়ক ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *