‘কেন্দ্রের অহংকারের হার, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা গণতন্ত্রের জয়,’ আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন কেজরির

নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের একমাসের মাথায় অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বললেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এদিন একটি ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের শুভেচ্ছাও জানালেন তিনি।
কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমাদের দেশের যুব সমাজ, জেন-জিদের অনেক শুভেচ্ছা। আপনাদের লড়াই সফল হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষমেশ ইস্তফা দিতে হল। এটি গণতন্ত্রের জয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের গণতন্ত্রের উপর থেকে ভরসাই উঠে গেছিল। তাঁরা ভাবতেন, সরকার হয়তো তাঁদের কথা কখনওই শুনবেন না। মানুষ সরকারের সামনে নিজেদের আর্জি নিয়ে হাত জোর করতেন, চিৎকার করে নিজেদের দাবি জানাতেন কিন্তু শোনার কেউ ছিল না। কিন্তু এত বড় একটা আন্দোলন হল, অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের অহংকারকে মানুষের সামনে হারতেই হল।’
মোদী সরকারের উদ্দেশে আপ নেতার পরামর্শ, ‘আজকের ঘটনা প্রমাণ করছে গণতন্ত্রের শক্তি কতটা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কথা তাদের শুনতে হবে। আমি আশা করছি, কেন্দ্র এবার নিট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনবে এবং আগামী বছর থেকে কোনও পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটবে না।’
শনিবার দুপুরে পদত্যাগের পর ‘তরুণ বন্ধুদের’ জন্য দু’পাতার একটি খোলা চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ধর্মেন্দ্র। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির বিষয় নয়। আন্দোলনকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে সুযোগ নিতে না পারে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সেই কারণেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চিঠির ছত্রে ছত্রে ধরা পড়েছে গত কয়েক দিনের ঘটনাক্রম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বেদনা ও ক্ষোভ। যন্তর মন্তরের টানা বিক্ষোভ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির বিষয় নয়। ভারতমাতার যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। যন্তর মন্তরে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের দিকে মন দিতে পারে— এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, নিট কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতি রুখতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করার কথা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেলফি ভিডিওতে কড়া আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের জীবনে গভীর মানসিক আঘাত নেমে এসেছে। অপরাধীদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল, কোনও পরীক্ষার্থীর যেন একটা পুরো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।’
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি ও বিশাল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের রূপরেখাও রয়েছে। আগামী সোমবার সংসদের দুই কক্ষে এই বিল পাস করানোর তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্র।