ধর্মেন্দ্রর ইস্তফাই শেষ নয়! মৃত পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও মামলার দাবিতে অনড় ‘আরশোলা’রা

দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ এবং নিট (NEET)-সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের জেরে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফাতেই যে আন্দোলন শেষ হচ্ছে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
মন্ত্রীর পদত্যাগের পরপরই কেন্দ্রের কাছে আরও দুটি জোরালো দাবি পেশ করেছে সিজেপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় এই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটছে না। পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও চরম হতাশার জেরে যে সমস্ত পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
অভিজিৎ দিপকে আরও জোরালোভাবে বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক অবসাদে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার কি ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়? এই বিপর্যয়ে মৃত প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর পরিবারকে অবিলম্বে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”
ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সিজেপি-র দ্বিতীয় দাবিটি ছাত্রছাত্রীদের আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত। গত ২০ জুলাই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করে তিনি জানান, সেদিন যেসব পুলিশকর্মী আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ২০ জুলাই বা তার পর থেকে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ যে সমস্ত মামলা দায়ের করেছে, সেগুলি অবিলম্বে বিনা শর্তে প্রত্যাহার করতে হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিট প্রশ্নফাঁস এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সিজেপি-র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশন চলার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকের পরই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।
যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি পূরণ হওয়ার আগেই তাঁর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিজেপি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশনে ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছিল। আর তাঁর অনশন ভাঙার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।