একলা ঘরে রাতে বুক ধড়ফড় ও অনিদ্রা? কো-স্লিপিং অভ্যাসের ভালো-মন্দ জানুন

আমাদের উপমহাদেশে বড় হওয়ার পর জীবনের কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে নিজের আলাদা ঘর, বিছানা বা আলমারি পাওয়া বেশ স্বাভাবিক একটি চিত্র। প্রথম দিকে এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দারুণ উপভোগ্য মনে হলেও, রাত নামলেই অনেকের মনে ভিড় করে এক অদ্ভুত শূন্যতা। দীর্ঘদিন মা-বাবার পাশে ঘুমিয়ে হঠাৎ একা ঘুমাতে গেলে অস্বস্তি, বুক ধড়ফড় করা বা ঘুম না আসার মতো সমস্যায় ভোগেন বহু তরুণ-তরুণী।
‘কো-স্লিপিং’ আসলে কী?
সহজ ভাষায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় বা একই ঘরে সন্তানের ঘুমানোর অভ্যাসকে কো-স্লিপিং (Co-sleeping) বলা হয়। বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এটি বহুল প্রচলিত একটি পারিবারিক সংস্কৃতি। এমনকি সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও অনেক পরিবারে এই অভ্যাস বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ঘুমানোর কোনো সাধারণ উপায় নয়; বরং গভীর আবেগ, নিরাপত্তা ও যত্নের প্রতীক। এর ফলে শিশুরা মানসিকভাবে বেশ সুরক্ষিত বোধ করে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকাতেও ‘অ্যাটাচমেন্ট প্যারেন্টিং’-এর অংশ হিসেবে এই অভ্যাসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
কো-স্লিপিংয়ের ইতিবাচক দিক
- নিরাপত্তাবোধ: গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ঘুম ভাঙলে মা-বাবাকে পাশে পেলে শিশুদের ভয় বা দুশ্চিন্তা দ্রুত কেটে যায়।
- আবেগীয় বিকাশ: পিতা-মাতার সান্নিধ্য শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- পারিবারিক বন্ধন: একই ঘরে ঘুমানোর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা ও যোগাযোগের পরিধি বাড়ে।
সমস্যা ঠিক কোথায়?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়স বাড়ার পরও এই অভ্যাস বজায় থাকলে সন্তানরা জীবনের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত বা নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। নিজের ঘরে একা শুতে না পারা কিংবা স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে এটি পরোক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়; নির্ভর করে সন্তানের বয়স ও পারিবারিক পরিবেশের ওপর।
একলা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ার সহজ উপায়
হঠাৎ করে একদিনেই সন্তানকে আলাদা না করে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা উচিত:
- ঘুমানোর আগে ঘরে বসে গল্প শোনানো বা কথা বলা।
- অন্ধকার ঘরের ভয় দূর করতে মৃদু আলোর নাইট লাইট (Night light) ব্যবহার করা।
- শুরুতেই অন্য ঘরে না পাঠিয়ে, কিছুদিন একই ঘরে আলাদা বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করা।