ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় খবর! অতিরিক্ত লাগেজ বুকিং এখন অনলাইনেই, জেনে নিন নিয়ম ও খরচ

ট্রেনযাত্রীদের জন্য বড় খবর! অতিরিক্ত লাগেজ বুকিং এখন অনলাইনেই, জেনে নিন নিয়ম ও খরচ

রেলযাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। এখন থেকে কনফার্মড টিকিট থাকা যাত্রীরা ট্রেন যাত্রার আগেই অনলাইনে অতিরিক্ত লাগেজের (Access Luggage) বুকিং করতে পারবেন। ৩১ জুলাই থেকে এই বিশেষ পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেছে। এতদিন পর্যন্ত ট্রেনের নির্ধারিত সীমার বেশি জিনিসপত্র নিয়ে যাত্রা করতে হলে যাত্রীদের স্টেশন চত্বরের পার্সেল বিভাগে গিয়ে আলাদা করে দৌড়ঝাঁপ ও বুকিং করতে হতো। অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন সেই দীর্ঘদিনের হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে।

রেল বোর্ডের নির্দেশে ‘সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস’ (CRIS)-এর তৈরি কারিগরি সহযোগিতায় এই সুবিধা চালু হয়েছে। এখন থেকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম কর্পোরেশন (IRCTC)-এর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করার সময়ই যাত্রীরা তাঁদের অতিরিক্ত লাগেজের বিষয়ে জানাতে পারবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য, যাদের টিকিট নিশ্চিত (Confirmed) হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে এই অনলাইন সিস্টেম? টিকিট বুকিংয়ের সময় বাড়তি লাগেজের বক্সে ক্লিক করলেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেনের শ্রেণি অনুযায়ী কতখানি লাগেজ বিনামূল্যে বহন করা যাবে, সর্বোচ্চ কতটা বাড়তি জিনিস নেওয়া যাবে, কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী রয়েছে কি না এবং কত টাকা মাশুল বা জরিমানা হতে পারে—তার সম্পূর্ণ হিসেব স্ক্রিনে ফুটে উঠবে।

শ্রেণি অনুযায়ী লাগেজের নিয়মাবলী:

  • এসি ফার্স্ট ক্লাস: বিনামূল্যে ৭০ কেজি নেওয়া যাবে। বাড়তি মাশুল গুনে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
  • এসি টু-টিয়ার (2-Tier): বিনামূল্যে ৫০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ১০০ কেজি লাগেজ বহন করা যাবে।
  • স্লিপার ক্লাস: বিনামূল্যে ৪০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৮০ কেজি।
  • দ্বিতীয় বা সাধারণ শ্রেণি: বিনামূল্যে ৩৫ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৭০ কেজি।
  • এসি থ্রি-টিয়ার / চেয়ার কার: এতে সাধারণত বিনামূল্যে ৪০ কেজি পর্যন্ত নেওয়া যায়। তবে স্থানসংকটের কারণে এই শ্রেণিতে অতিরিক্ত লাগেজ বুকিংয়ের অনুমতি সচরাচর দেওয়া হয় না।

ব্যাগের মাপ ও আয়তন: যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে লাগেজের আকৃতিতেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • এসি ৩-টিয়ার, ৩-ইকনমি ও চেয়ার কার: সর্বোচ্চ ৫৫ সেমি × ৪৫ সেমি × ২২.৫ সেমি।
  • এসি ফার্স্ট ক্লাস, টু-টিয়ার, স্লিপার ও সাধারণ শ্রেণি: সর্বোচ্চ ১০০ সেমি × ৬০ সেমি × ২৫ সেমি।

মাশুল ও পেমেন্ট ব্যবস্থা: অতিরিক্ত লাগেজের ক্ষেত্রে সাধারণ লাগেজ মাশুলের দেড় গুণ (১.৫ গুণ) টাকা দিতে হবে। সর্বনিম্ন মাশুল ৩০ টাকা এবং হিসাব হবে প্রতি ১০ কেজির ধাপে (ন্যূনতম ৫০ কিমি দূরত্ব ধরে)।

যাত্রীকে যা করতে হবে: অনলাইনে বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার পর যাত্রীকে একটি ‘ই-ফরওয়ার্ডিং নোট’ পার্সেল পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে হবে। যাত্রার দিন ব্যাগের সাথে সেই নোটের প্রিন্টআউট নিয়ে স্টেশনে গেলে ওজন মিলিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত রেলওয়ে রসিদ (RR) দেওয়া হবে। যাত্রীরা অনলাইনে ‘Track & Trace’ ফিচারের মাধ্যমে নিজ লাগেজের বর্তমান অবস্থানও জেনে নিতে পারবেন। গন্তব্যে পৌঁছালে এসএমএস বিজ্ঞপ্তির পর মূল রসিদ দেখিয়ে লাগেজ খালাস করা যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই ডিজিট্যাল সুবিধার ফলে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও পার্সেল কাউন্টারে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় কমবে এবং ট্রেন যাত্রা আরও মসৃণ ও আরামদায়ক হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *