শ্রাবণে ভক্তদের ঢল! ভারতের একমাত্র ‘পঞ্চমুখী শিব মন্দির’-এর রহস্য ও ইতিহাস জানেন?

শ্রাবণে ভক্তদের ঢল! ভারতের একমাত্র ‘পঞ্চমুখী শিব মন্দির’-এর রহস্য ও ইতিহাস জানেন?

শৈব ভক্তদের কাছে শ্রাবণ মাস অত্যন্ত পবিত্র। এই বিশেষ সময়ে মহাদেবের কৃপালাভ ও শিবের মাথায় জল ঢালতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা পায়ে হেঁটে ছুটে আসছেন মুর্শিদাবাদের বাঘডাঙ্গা পঞ্চমুখী শিব মন্দিরে। শ্রাবণের প্রতিটি সোমবারে এই মন্দির প্রাঙ্গণে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভারতের একমাত্র পঞ্চমুখী শিব মন্দির

এই তীর্থক্ষেত্রের প্রধান বিশেষত্ব হলো— এটি সমগ্র ভারতের মধ্যে একমাত্র পঞ্চমুখী শিব মন্দির হিসেবে পরিচিত। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বাঘডাঙ্গার রাজা কালীশঙ্কর রায় এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

  • স্থাপত্যের নিদর্শন: প্রাঙ্গণের মূল আকর্ষণ হলো ‘কালেশ্বর শিব মন্দির’। ৯টি চূড়া বিশিষ্ট এবং প্রায় ৪০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১৮ ফুট। মন্দিরের গায়ে রয়েছে অপূর্ব দেবদেবী মূর্তি ও সূক্ষ্ম ফুলকারি নকশা।
  • বিগ্রহের বৈশিষ্ট্য: মন্দিরের ভেতরে স্থাপিত ‘কালেশ্বর শিব’ বিগ্রহটি পঞ্চমুখী এবং এর উচ্চতা প্রায় ৪ ফুট।
  • অন্যান্য মন্দির: মূল মন্দিরের উত্তর ও দক্ষিণে মোট ১৩টি ছোট-বড় শিবমন্দির রয়েছে, যা আটচালা ও চারচালা স্থাপত্যরীতিতে তৈরি।

বাঘডাঙ্গা রাজবাড়ি ও প্রাচীন ঐতিহ্য

শিব মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে কিছুটা উত্তরে এগোলেই দেখা মেলে বাঘডাঙ্গা রাজের ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়ির। ১৮ শতকে সূর্যমানের পুত্রবধূ পার্বতীদেবী এখানে বেশ কিছু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

  • দেবী সিংহবাহিনী ও দুর্গাপূজা: ঠাকুরবাড়ির মূল দালান মন্দিরে দেবী সিংহবাহিনী নিত্য পূজিত হন। পাশাপাশি দেবী মহিষমর্দিনীর বেদীতে প্রতি বছর মহাসমারোহে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
  • ৩০০ বছরের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি: সময়ের সাথে সাথে রাজবাড়ির অনেক কিছু ধ্বংস পেলেও, এখনও একটি দালানে নরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়দের দ্বারা পূজিত প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি স্বমহিমায় বিরাজমান।
  • সদর পুকুর: কাছেই অবস্থিত ঐতিহাসিক দীঘি ‘সদর পুকুর’। যার বাঁধানো ঘাট ও চারপাশের সৌন্দর্যায়ন বর্তমান পর্যটকদের বেশ আকৃষ্ট করে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ধর্মীয় অনুভূতি এবং অসাধারণ স্থাপত্যের মেলবন্ধন দেখতে এই শ্রাবণেই ঘুরে আসতে পারেন মুর্শিদাবাদের এই অনন্য তীর্থক্ষেত্রে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *