পিঙ্ক কার্ডের আবেদন করলেও হাতে পাননি? সরকারি বাসে ফ্রি রাইড নিয়ে পরিবহন দফতরের বড় নির্দেশিকা!

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য ‘পিঙ্ক কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১ অগাস্ট থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও এই কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তবে এখনও অনেকে কার্ড হাতে না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি। এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য পরিবহন দফতর।
কারা পাবেন এই পিঙ্ক কার্ড?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সীমিত আয়ের পরিবার এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রী, কর্মজীবী মহিলা এবং দৈনিক সরকারি পরিবহনের উপর নির্ভর করা যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাঁরা আর্থিকভাজ সচ্ছল কিংবা নিজস্ব খরচে বাসভাড়া দিতে সক্ষম, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হচ্ছে না।
পিঙ্ক কার্ড হাতে না পেলে কীভাবে করবেন যাতায়াত?
বর্তমানে পরিবহন দফতর জানিয়েছে, প্রচুর আবেদন জমা পড়ায় সবার পিঙ্ক কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
- বর্তমান নিয়ম: সব আবেদনকারী কার্ড না পাওয়া পর্যন্ত, সরকারের অনুমোদিত পরিচয়পত্র (যেমন আধার বা ভোটার কার্ড) দেখিয়েই আপাতত বিনামূল্যে সফর করা যাবে।
- ভবিষ্যতের নিয়ম: সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীর হাতে কার্ড পৌঁছে গেলে অন্য পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম বন্ধ করা হবে। তখন বাসে কন্ডাক্টরকে অবশ্যই পিঙ্ক কার্ড দেখাতে হবে এবং টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে তা ভেরিফাই করার পরেই মিলবে ফ্রি টিকিট।
কীভাবে আবেদন করবেন?
১. অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (https://wb.gov.in/) যান।
- ‘Pink Card’ বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
- নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- প্রয়োজনীয় নথি ও ছবি আপলোড করে আবেদনপত্র জমা দিন এবং রিসিট কপি ডাউনলোড করে রাখুন।
২. অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:
- পঞ্চায়েত এলাকা: আবেদনকারীকে নিকটস্থ বিডিও (BDO) অফিসে যেতে হবে।
- পুরসভা এলাকা: স্থানীয় পুরসভা কার্যালয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি:
পিঙ্ক কার্ড পাওয়ার জন্য প্রধানত ৩টি তথ্য বা নথি থাকা আবশ্যক: ১. আবেদনকারীর বৈধ আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড। ২. রাজ্যের ২০২৬ এসআইআর (SIR) তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক। ৩. আবেদনকারীর সাম্প্রতিক স্ট্যাম্প সাইজ বা ডিজিটাল ছবি এবং ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের জন্য একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর।
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলেই আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে কাঙ্ক্ষিত ‘পিঙ্ক কার্ড’।