অষ্টম বেতন কমিশন: ৭৫ লাখ টাকা গ্র্যাচুইটি ও OPS চালুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের

অষ্টম বেতন কমিশন: ৭৫ লাখ টাকা গ্র্যাচুইটি ও OPS চালুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের

দ্য ওয়াল অনলাই ডেস্ক: নির্ধারিত মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে পে পৌঁছেছে অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাজ। অবসর পরবর্তী আর্থিক সামাজিক সুরক্ষা, পেনশন সংস্কার এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়ে এবার কর্মী সংগঠন ও পেনশনভোগীদের সাথে চূড়ান্ত দফার আলোচনায় বসছে কমিশন। এই আবহে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চ ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল-জেসিএম’ (NC-JCM)-এর পেশ করা একগুচ্ছ নজিরবিহীন দাবি ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কর্মী সংগঠনগুলির মূল দাবি— অবসের পর যেন কর্মচারীরা সম্মানজনক আর্থিক নিরাপত্তা পান। NC-JCM-এর স্মারকলিপিতে তুলে ধরা প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • ৭৫ লাখ টাকা গ্র্যাচুইটি: বর্তমান নিয়মে অবসরকালীন গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লক্ষ টাকা। এটিকে একলাফে বাড়িয়ে ৩ গুণ অর্থাৎ ৭৫ লক্ষ টাকা করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
  • পুরনো পেনশন (OPS) ফেরানো: নতুন চালু হওয়া NPS কিংবা প্রস্তাবিত UPS বাতিল করে আগের মতো নিশ্চিত রিটার্নযুক্ত পুরনো পেনশন প্রকল্প (OPS) পুনর্বহাল করতে হবে।
  • শেষ মূল বেতনের ৬৭% পেনশন: অবসরগ্রহণের পর প্রতি মাসে শেষ পাওয়া মূল বেতনের ৬৭ শতাংশ পেনশন হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্যামিলি পেনশনের পরিমাণ ৫০ শতাংশ করার দাবি উঠেছে।
  • ১১ বছরেই কমিউটেড পেনশন ফেরত: বর্তমানে পেনশনের বিক্রি হওয়া বা ‘কমিউটেড’ অংশ ফিরে পেতে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, এই সময়সীমা কমিয়ে ১১ বছর বা কর্মচারীর ৭১ বছর বয়স (যেটি আগে হবে) করা হোক।
  • ৬০০ দিনের লিভ এনক্যাশমেন্ট: জমাকৃত অর্জিত ছুটি নগদীকরণের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০০ দিন করা এবং হাফ-পে লিভ (HPL)-এর সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ অবসরের সময় এককালীন মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
  • অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা: বয়স্ক নাগরিকদের জন্য রেলে ছাড়ের পুনঃপ্রবর্তন, আয়করে বিশেষ ছাড়, LTC, HRA এবং কেয়ারটেকার ভাতার ব্যবস্থা করার আর্জিও জানানো হয়েছে।

কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও রিপোর্ট পেশ:

বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের ১৮ মাসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে-জুন মাসে। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে পরবর্তী ধাপের বৈঠক শুরু হওয়ার পর কমিশন পর্যায়ক্রমে চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে স্থানীয় কর্মী সংগঠনগুলির সাথে মুখোমুখি আলোচনায় বসবে।

সব পক্ষের প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা শেষে ২০২৭ সালের মে বা জুন নাগাদ কেন্দ্র সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে কমিশন। এরপরই চূড়ান্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পে-ম্যাট্রিক্স ও পেনশনের ঘোষণা আসবে, যার দিকে এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন দেশের লক্ষ লক্ষ বর্তমান ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *